ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
Home » জাতীয় » বড়লেখা অ্যাম্বুলেন্স আটকে শিশুহত্যা : দাফনের ৩৮ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

বড়লেখা অ্যাম্বুলেন্স আটকে শিশুহত্যা : দাফনের ৩৮ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

এইবেলা, বড়লেখা, ০৬ ডিসেম্বর ::

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট চলাকালে উপজেলার চান্দগ্রাম বাজারে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় বিনাচিকিৎসায় নিহত ৭ দিন বয়সি সেই শিশুকন্যার লাশ দাফনের ৩৮ দিন পর বৃহস্পতিবার ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ কবর থেকে উত্তোলন করেছে। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফ উদ্দিন, হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিন ও মামলার বাদি শিশুটির চাচা আকবর আলী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, বড়লেখার অজমির গ্রামের দুবাই প্রবাসী কুটন মিয়ার শিশু মেয়ে খাদিজা আক্তার অসুস্থ হলে গত ২৮ অক্টোবর সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক শিশুটিকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পরিবহন শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখে। অনেক অনুনয় বিনয়ের পর তিন স্থান থেকে ছাড়া পেলেও অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম বাজারে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা সেখানে দেড়ঘণ্টা আটকে রাখায় বিনাচিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্সেই শিশুটি মারা যায়। স্বজনরা ওই দিন রাতেই শিশুটিকে গ্রামের গোরস্থানে দাফন করেন। ঘটনার ৩ দিন পর গত ৩১ অক্টোবর শিশুটির চাচা আকবর আলী ১৬০ থেকে ১৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা করেন।

গত ১৪ নভেম্বর এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিন বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভিকটিম শিশুর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আবেদন করেন। আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মৌলভীবাজার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আদেশ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বড়লেখা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. শরীফ উদ্দিন জানান, বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তার উপস্থিতিতে পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে শিশুকন্যা খাদিজার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন।#