ডিসেম্বর ৯, ২০১৮
Home » জাতীয় » সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কান্ড !

সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কান্ড !

এইবেলা, বড়লেখা, ০৯ ডিসেম্বর ::

মৌলভীবাজারের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মারুফ আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক) জেলা পর্যায়ে সেমি ফাইনালে উন্নীত বড়লেখার মহদিকোনা সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের ইউএনও ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত তালিকা, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মাঠের মধ্যে ছিড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তার পছন্দের স্কুল সেমি ফাইনালে বিজয়ী হতে না পারায় তিনি এ কাজ করেন বলে অভিযোগ করেন এ স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাসান আলী। খেলার মাঠে সরকারী এ কর্মকর্তার উদ্যতপূর্ণ আচরণে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ উপস্থিত সকলেই হতবাক হন।

স্কুল কমিটির সভাপতি হাসান আলীর অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ ফুটবলে বালক পর্যায়ে বড়লেখা উপজেলা শ্রেষ্ট মহদিকোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় জেলা পর্যায়ে উন্নীত হয়। শুক্রবার জেলায় প্রথম রাউন্ডে কমলগঞ্জের একটি স্কুলকে হারিয়ে সেমি ফাইনেলে উঠে মহদিকোনা প্রাইমারী স্কুল। শনিবার মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিতে শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ০-৬ গোলে পরাজিত করে ফাইনেলে উঠে স্কুলটির বালক দল। এরপরই এ স্কুলের টিমকে হারাতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মারুফ আহমদ চৌধুরী। খোড়া অজুহাতে মহদিকোনা স্কুল টিমের ৩ জন খেলোয়াড়কে ফাইনালে খেলতে দেননি। মাঠের প্যাভিলিয়নে রাখা ফাইল থেকে মহদিকোনা স্কুল টিমের সত্যায়িত খেলোয়াড় তালিকা, ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বের করে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে মাঠে ছুড়ে ফেলেন। ৮ জন খেলোয়াড় নিয়ে ফাইনাল খেলতে বাধ্য করায় স্কুলটি রানার্স আপ হয়।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত খেলোয়াড় তালিকা, ছবি ও গুরুত্বপুর্ণ কাগজপত্র প্রকাশ্যে খেলার মাঠে ছিড়ে ফেলার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এব্যাপারে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মারুফ আহমদ চৌধুরী জানান, এ কাগজপত্রগুলো অপ্রয়োজনীয় হওয়ায় ফেলে দিয়েছেন। অফিসিয়েলি দেয়া কাগজপত্র ডিপিইও অফিসে জমা রয়েছে।

মহদিকোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল খালিক জানান, এডিপিইও স্যার অফিসিয়েল ফাইল থেকেই আমার স্কুলের খেলোয়াড়দের সত্যায়িত তালিকা, ছবিসহ কাগজপত্র ছিড়ে ফেলেন। এজন্য আমার স্কুল ফাইনাল খেলতে চায়নি। জোর করে ৩ জনকে বাদ দিয়ে ৮ জন দিয়ে খেলিয়ে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে।