ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮
Home » জাতীয় » দেশজুড়ে চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়

দেশজুড়ে চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়

সেলিম আহমেদ, ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে চায়ের কাপে বইছে নির্বাচনী ঝড়। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কি আবারো ক্ষমতায় থাকবে পারবে? না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় যাবে, এই প্রার্থীর দোষগুলো কি? ওই প্রার্থীর গুণ কি- এসব বিষয় নিয়ে চায়ের দোকানগুলোতে চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজধানীর অফিসপাড়া সব জায়গাই একই চিত্র। সব শ্রেণি-পেশার মানুষই এখন ব্যস্ত নির্বাচন নিয়ে। শীতের আমেজে ধূমায়িত চায়ের কাপে চুমুকে চুমুকে চলে ভোটের আলাপ। সেই আলাপের কোনো শেষ নেই। নির্বাচনী আলাপ-আলোচনায় দিন কাটে সবার।

রাজধানীর বিভিন্ন চায়ের দোকানে শ্রমজীবী মানুষ ও ছাত্রনেতাদের মধ্যেই ভোটের আলাপে আগ্রহ বেশি দেখা যায়। চা পান করতে করতে অনেকেই নির্দ্বিধায় কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা জোটের পক্ষে নিজের অবস্থান প্রকাশ করছেন। তবে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান কৌশলগত কারণে প্রকাশ করেন না। সে কারণে ভোটের আলাপ থেকে দূরে থাকারও চেষ্টা করেন কেউ কেউ। তবে ভোটের দিন এখন যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভোটের আলাপ।

আবার কোথাও কোথাও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ভোটের আলাপ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ঠেকাতে অনেক চায়ের দোকানে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে নোটিশও। সেখানে লেখাÑ ‘রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ।’ রাজধানীর গ্রীন রোডের একটি চায়ের দোকানে দেখা গেছে এমন নোটিশ। নোটিশ টাঙানোর কারণ সম্পর্কে দোকানি রফিক মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে ভোটের আলাপ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই তিনি এ নোটিশ টাঙিয়েছেন।

শুধু রাজধানী নয় এমন চিত্র পুরো দেশজুড়েই। শীতের আমেজে চায়ের চুমুকে চুমুকে চলছে ভোটের আলাপ। সেই আলাপের কোনো শেষ নেই। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্তই চলে নির্বাচন নিয়ে চুলচেরা নানা বিশ্লেষণ।

রোববার রাত ১০টায় রাজধানীর পান্থপথ সিগনালে ফুটপাতের চায়ের দোকানে আড্ডায় মশগুল ৮-১০ যুবক। কয়েকদিন পরই জাতীয় সংসদের নির্বাচন। তা নিয়ে নানা হিসাব কষছেন তারা। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলে বিভক্ত ওই যুবকরা যুক্তি তর্কের মাধ্যমে নিজের দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। চায়ের দোকানি পারভেজ আহমদও ব্যস্ত চা বানাতে।

এ সময় বিএনপি সমর্থিত শেখ সাব্বির আলম ও গিয়াস মিয়া মানবকণ্ঠের এ প্রতিবেদককে বলেন, বিগত ১০ বছর থেকে আমরা মুখ খুলে কথা বলতে পারিনি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামলেই তারা নির্যাতন করেছে। হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে। ভার্সিটির হল থেকে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্ররা বের করে দিয়েছে। দেশে উন্নয়নের নামে হরিলুট হয়েছে। দুর্নীতি করে কোটিপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও মাঠে নামতে পারছেন না আমাদের নেতাকর্মীরা। পুলিশ ও ক্ষমতাসীনরা আমাদের নেতাদের মাঠে নামলেই তাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা আশা করছি দেশের জনগণ এবার জবাব দেবে। নীরব বিল্পব ঘটবে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব বলে আশাবাদী।

কিন্তু এর পাল্টা জবাব দিলেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য জীবন রহমান। তিনি বললেন, আওয়ামী লীগের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা হাতে বই পায়, মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয় না, গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতায়িত হয়েছে, সব বাধা অতিক্রম করে পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে সর্বোপরি শিক্ষা, সাহিত্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে। এই নির্বাচন হলো উন্নয়নের প্রতীক নৌকার নির্বাচন। দেশজুড়ে উন্নয়নের জোয়ারের মানুষ এখন জননেত্রী শেখ হাসিনা ও নৌকার ওপর বিশ্বাসী হয়ে গেছে। দেশের উন্নয়নে নৌকার কোনো বিকল্প নেই- এ কথা দেশবাসী মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। দেশের এই উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত রাখতে মানুষ আরার উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকে বিজয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী।

পান্থপথের চায়ের দোকানি পারভেজ আহমদ, মোজাম্মেল মিয়া, পারভিন বেগম বললেন, দোকানে যত লোক আসেন সবাই আগামী নির্বাচন নিয়েই আলাপ-আলোচনা করেন। নির্বাচন ছাড়া কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ করতে দেখা যায় না। এই ফাঁকে চা বিক্রিও অনেক বেড়েছে।#