জানুয়ারি ৯, ২০১৯
Home » খেলা » কুলাউড়ার কর্মধায় শতবর্ষী খেলার মাঠে চারা রোপনের চেষ্টা : এলাকায় উত্তেজনা

কুলাউড়ার কর্মধায় শতবর্ষী খেলার মাঠে চারা রোপনের চেষ্টা : এলাকায় উত্তেজনা

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৯ জানুয়ারি ::  কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের রাঙ্গিছড়া বাজার সংলগ্ন শতবর্ষী একটি খেলার মাঠ দখল করাকে কেন্দ্র করে চা-বাগান ও বস্তিবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঐতিহ্যবাহী ওই মাঠে যুগ যুগ থেকে ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ জাতীয় দিবসের খেলাধুলার কর্মসূচী চলে আসছিলো।

কিন্তু কাউকে কোন কিছু না জানিয়েই বুধবার সকালে খেলার মাঠে চারা রোপন করতে আসে রাঙ্গিছড়া চা-বাগানের শতাধিক শ্রমিক। এ নিয়ে গোটা এলাকা জুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

জানা যায়, ৯ জানুয়ারি বুধবার সকালে রাঙ্গিছড়া বাজার সংলগ্ন মাঠে একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ চলছিলো। এসময় বাগানের শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক মাঠে চায়ের চারা রোপনের চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষ (খেলোয়াড়-শ্রমিক) বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লে পাশর্^বর্তী কয়েক গ্রামের শত শত লোকজনও জড়ো হয় এবং দুই পক্ষ মাঠের দু’পাশে মারমুখী অবস্থান নেয়।

খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার এসআই সানাউল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ এবং কর্মধা ইউপির চেয়ারম্যান এমএ রহমান আতিক ও কুলাউড়া সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দীর্ঘ ৩ঘন্টার চেষ্টায় তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হন। উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে দু’দিনের মধ্যে বিষয়টির সুরাহার আশ^াস প্রদান করা হয়।

রাঙ্গিছড়া ফুটবল ক্লাবের সভাপতি রুহেল আহমদ, সম্পাদক লিটন আহমদ, ক্রিকেটার সাজু, রুহিন, শাহিন, মুহিনসহ অনেকে জানান, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে এই মাঠে বাগান-বস্তি মিলেমিশে খেলাধুলা করে আসছে। অতীতে কোন সময় বাগান কর্তৃপক্ষ খেলার মাঠ বন্ধ করে চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। হঠাৎ করে তাদের এমন সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক। মাঠ রক্ষার্থে আমরা ছাত্র ও যুবসমাজ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবো। খেলার এই মাঠ রক্ষার্থে ক্রীড়াবান্ধব বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে বাগান ব্যবস্থাপক হাজী আবুল কালাম জানান, এটা আমার ব্যক্তিগত কোন সিদ্ধান্ত নয়। বাগান শ্রমিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মাঠটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান এমএ রহমান আতিক জানান, এই মাঠটি অনেক পুরাতন। বাগান কর্তৃপক্ষ হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে কেন গেল জানিনা। তবুও বিষয়টি নিয়ে খুব দ্রুত আমরা উভয় পক্ষের সাথে আলোচনায় বসছি।