জানুয়ারি ৯, ২০১৯
Home » জাতীয় » কমলগঞ্জে রেলওয়ের জমিতে ফিশারি ও বাসাবাড়ি স্থাপন!

কমলগঞ্জে রেলওয়ের জমিতে ফিশারি ও বাসাবাড়ি স্থাপন!

এইবেলা, কমলগঞ্জ, ০৯ জানুয়ারি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে রেলওয়ের কৃষিজমিতে মাটি কেটে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। সিলেট-আখাউড়া সেকশনের রেলওয়ে ভূমি কৃষি লিজ নিয়ে ফিশারি স্থায়ীভাবে বাসাবাড়ি স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফিশারি স্থাপনের ফলে শমশেরনগর রেলষ্টেশন সংলগ্ন রেলপথে মাটি ধ্বসে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবৈধভাবে ফিশারি স্থাপনের বিষয়ে বুধবার সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রেলওয়ের কুলাউড়া অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্রীমঙ্গল জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রেলওয়ের কুলাউড়া অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শমশেরনগর রেলওয়ের জমি কৃষি লিজ নিয়ে এলাকার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির দীর্ঘদিন ধরে কলোনী ও বাসাবাড়ি স্থাপন করে অন্যত্র বিক্রয় করছেন। লিজের শর্তাবলী ভঙ্গ করে তিনি কর্তৃপক্ষের কোনরূপ অনুমতি ছাড়াই একের পর এক অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে রেলপথ সংলগ্ন কৃষিজমিতে ফিশারি করার জন্য কার্যক্রম শুরু করেন।

সরেজমিনে এসে তা দেখতে পেয়ে এ ধরণের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষিলিজ নিয়ে কমার্শিয়ালভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিক্রি, মাটিকাটা সম্পূর্ণ নিষেধ। অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে ফিশারি করার ফলে বর্ষা মৌসুমে রেলপথের মাটি ধ্বসে ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া ওই এলাকায় রেলওয়ের জমিতে এমনভাবে কলোনী স্থাপন করা হয়েছে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই। ফলে পানি জমাটবদ্ধ হয়ে মাটি দেবে যেতে পারে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শ্রীমঙ্গল জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-আখাউড়া সেকশনের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এর আশেপাশে কৃষিজমির অনেক স্থানেই ভরাট করে ইটের তৈরি কলোনী স্থাপন করা হয়েছে এমন কি ছোট ছোট দোখান ঘর তৈরি করে রেলওয়ে গেইট সংলগ্ন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এসব কলোনী সমুহে লোকজন বসবাস করছেন। এছাড়াও শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের চর্তুপাশে রেলওয়ের ভূমিতে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কলোনী স্থাপন করে রমরমা বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। রেলষ্টেশনের দক্ষিণপার্শ্বে পরিত্যক্ত লাল গোদামও দখলে নিয়ে একটি মহল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গোদামের পার্শ্ববর্তী রেলস্টেশনের ভূমিতে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য গড়ে তোলছেন পাকা দোকান ঘর। স্টেশনের আশপাশ জুড়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা কর্তৃপক্ষের কোনরূপ অনুমতি ছাড়াই এভাবে একের পর এক প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও দখলে নিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে রেল স্টেশনের প্রয়োজনীয় ভূমি ও পূর্বের নির্মিত প্রতিষ্ঠান সমুহ বেদখল হচ্ছে এবং এলোপাতাড়ি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের হিড়িক শুরু হয়েছে।

তবে অভিযোগ বিষয়ে কৃষি লিজ গ্রহীতা শমশেরনগর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির বলেন, ওই জমিতে ফিশারি স্থাপন করা হচ্ছে না। সবজি চাষের জন্য জমির একটি পাশে মাটি উচুঁ করা হচ্ছিল। এখানে ভাসমান সবজি চাষের জন্য কাজ করা হচ্ছে। নিজে কোথাও কোন কলোনী স্থাপন করিনি বা কারো কাছে ভূমি বিক্রি করা হয়নি।

অভিযোগ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর মো. ইসমাইল বলেন, রেলওয়ের কুলাউড়া অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।