জানুয়ারি ১৪, ২০১৯
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » হাকালুকি হাওরের কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রম- মাছ লুটের পরিকল্পনায় কাটা হয়েছে বিলের বাঁধ

হাকালুকি হাওরের কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রম- মাছ লুটের পরিকল্পনায় কাটা হয়েছে বিলের বাঁধ

এইবেলা ডেস্ক. ১৪ জানুয়ারি ::

হাকালুকি হাওরে ২০১১ সালে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষিত কৈয়ারকোনা বিল থেকে মাছ লুটের পায়তারা চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা। শনিবার ১২জানুয়ারি রাতে তারা বিলের পানি কমাতে বাঁধ কেটে দেয়। রোববার দুপুরবেলা বড়লেখার সহকারি কমিশনার (ভূমি)র নেতৃত্বে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাটা বাঁধ বন্ধ করেছেন। কিন্তু তাতে মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষার সম্ভাবনা কম বলে স্থানীয় লোকজন ও ভিসিজি লোকজনরা জানিয়েছেন। এব্যাপারে রোববার সকালে ভিসিজি’র পক্ষ থেকে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, হাকালুকির প্রায় ৭৭ একর কৈয়ারকোনা বিলটি মাছের বিলুপ্তি রোধ, প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে ২০১১ সালে সরকার অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। ২০১২ সাল থেকে অভয়াশ্রম এ বিলে সরকারি কার্যক্রম শুরু হয়। বিল রক্ষনাবেক্ষণ ও পাহারার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থানীয় হাল্লা ভিসিজিকে (ভিলেজ কনজারভেটিভ গ্রুপ)। দীর্ঘদিন ধরে কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রম বিলে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় মৎস্যখেকোদের।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, বড়লেখার তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়া লীগ নেতা বিদ্যুৎ কান্তি দাসের ছত্রছায়ায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা সঞ্জয় দাস, অজিত দাস, আফতাব আলী আক্তদির, ফখর উদ্দিন, ফয়সল আহমদ, মিনাজ উদ্দিন প্রমুখের নেতৃত্বে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মাছ লুটের উদ্দেশ্যে কৈয়ারকোনা বিলের পশ্চিম পাড়ের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাষণ শুরু করে। কয়েক দিন আগে থেকেই তারা বিলের পাড়ে বাসা তৈরি করে অবস্থান নেয়।

অভয়াশ্রম বিলের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা হাল্লা ভিসিজি’র সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আহমদ জানান, কৈয়ারকোনা বিলে জাল ফেলার জন্য পানি কমাতে ১৫-২০ ব্যক্তি শনিবার রাতে বিলের পশ্চিম পাড়ের বাঁধ কেটে দেয়। আমাদের বাঁধা তারা মানেনি। এর আগে থেকে তারা বাসা তৈরি করে বিলের পাড়ে অবস্থান করছে। যারা বাসা তৈরি করেছে, তারা বলেছে যেহেতু কৈয়ারকোনা বিল সরকারি অভয়াশ্রম। আমরা সরকার দলের লোকেরা মাছ মারবো। বিল পাহারাদাররা যেন কোন কথা না বলে।

সিএনআরএস হাকালুকি হাওরের মাঠ কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, হাকালুকি হাওরের প্রথম মৎস্য অভয়াশ্রম এই কৈয়ারকোনা বিল। শুধু মাছ না পাখিরও অভয়াশ্রম বলা যায়। বাঁধ কাটার পর আমরা বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। এর প্রেক্ষিতে এসি ল্যান্ডের নেতৃত্বে লোকজন সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে অবৈধভাবে নির্মিত বাসা উচ্ছেদ করেন। তাছাড়া কাটা বাঁধ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। বাঁধ বন্ধের কাজ চলছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা বিদ্যুৎ কান্তি দাস জানান, এসব কে বলল? আমি বাড়িতে নেই। গতকাল রাতে কারা বাঁধ কেটে দিয়েছে। ওরা আমাকে ফোনে বলেছে। আমি (বিকেল ৪টায়) এখন যাবো। সব ঠিক আছে আবার বাঁধ দেয়া হয়েছে। ইনো (এখানে) সরকার দলের কথা বললে আমরা বলবো। অভয়াশ্রমে কোনভাবেই মাছ শিকার করা হবে না বলে তিনি জানান।

সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. শরীফ উদ্দিন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও তহশিলদার নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা বাঁধ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।#