জানুয়ারি ২০, ২০১৯
Home » জাতীয় » মৌলভীবাজার-সুনামগঞ্জ সংরক্ষিত আসনে চমক দেখাতে পারেন সৈয়দা নাজনীন সুলতানা

মৌলভীবাজার-সুনামগঞ্জ সংরক্ষিত আসনে চমক দেখাতে পারেন সৈয়দা নাজনীন সুলতানা

এইবেলা, ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত আসনে চমক দেখাতে পারেন প্রবাসী কমিউনিটি নেত্রী সৈয়দা নাজনীন সুলাতানা (শিখা)। মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসন ২৯-এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার লষ্করপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান সৈয়দা সুলতানা ছাত্রজীবনেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্ররাজনীতিতে। তার বড় বোন জেবুন্নেছা হক পুরো সিলেট বিভাগের নারী রাজনীতির নক্ষত্র। রোকেয়া পদকে ভূষিত হওয়া জেবুন্নেছা সিলেট সংরক্ষিত আসনে দু’বারের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর বোমা হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেবুন্নেছা হক। এছাড়াও ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেছার তাঁতীপাড়ার বাসায় সভা চলাকালে বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে জেবুন্নেছা আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান। বোমা হামলায় আহত হন আরো ১০ জন।

সৈয়দা সুলতানা ১৯৮৭ সালে স্বামী-সন্তানসহ লন্ডনে গিয়ে নিজেকে জড়িয়ে নেন কমিউনিটি সেবায়। আওয়ামী লীগের প্রতিটি দুঃসময়ের আন্দোলন সংগ্রামে নিজেকে জড়িত রেখেছেন অগ্রভাগে। লন্ডনের নারী জাগরণের অন্যতম অগ্রদূতও বলা হয় তাকে। তিনি ১৯৯৫ সালে লন্ডনে প্রতিষ্ঠা করেন নারী চেতনা নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মৌলভীবাদিদের তৎপরতা বন্ধ, বিশ্বাব্যাপী আলোচিত নুরজাহান হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এখনো তিনি সংগঠনটির চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করছেন। তার উদ্যোগে ২০০৬ সালে লন্ডনে পালিত হয় প্রথম পহেলা বৈশাখ। এরপর থেকেই লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ।

সৈয়দা সুলতানা ১৯৯১ সাল থেকে লন্ডন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করেছেন লন্ডন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু রিসার্চ সেন্টারের সাংগঠনিক সম্পাদকের। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ লন্ডন শাখার সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফোরামের মহিলা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের পাশাপাশি কুলাউড়ায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্য আলোর প্রদীপ ব্যাপক প্রসারিত করতে গঠন করেন এডুকেশন অ্যাওয়ারনেস ট্রাস্ট।

সৈয়দা সুলতানা সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন লন্ডনের লেবার পার্টির রাজনীতিতে। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র্য টিউলিপ সিদ্দিকী, রুশনারা আলী, রুপা হকের নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি ছিলেন অগ্রভাগে।

সৈয়দা নাজনীন সুলতানা বলেন, আমি পারিবারিকভাবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির আদর্শে বেড়ে উঠেছি। আমার রাজনৈতিক জীবন ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে প্রভাবিত করেছে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে সরকারি চাকরি করেছি সেন্ট্রাল হেলথ বিভাগে। জড়িত ছিলাম নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে। আমার এসব অভিজ্ঞতার আলোকে দুই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে কাজ করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দল এবং সরকারে নারী নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখছেন, আমার বিশ্বাস সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে সে আস্থা রাখলে আমার সুযোগ আছে। সুযোগ পেলে আমি তৃণমূল পর্যায়ে পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নেত্রীর লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে আমার সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম প্রয়োগ করব। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে তরুণ প্রজš§কেও প্রধান্য দিয়ে কাজ করে যাব।#