জানুয়ারি ২৮, ২০১৯
Home » জাতীয় » হাকালুকি হাওরে বিপন্ন ৬ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে

হাকালুকি হাওরে বিপন্ন ৬ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে

আজিজুল ইসলাম, ২৮ জানুয়ারি ::

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর ও সবচেয়ে বড় অতিথি পাখির সমাগমস্থল হাকালুকিতে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি শনিবার ও রোববার দু’দিনব্যাপী জলচর পাখি শুমারি সম্পন্ন হয়। এবার বিপন্ন ৬ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে হাকালুকি হাওরে। তবে শুমারিতে অংশগ্রহণকারিরা জানান হাওরের পরোতি, বালিজুড়ি, নাগুয়াধলিয়া বিলে বিষটোপ দিয়ে মারা পাখি পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের খ্যাতিমান পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক ও পল থমপসনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্যরা পাখি শুমারিতে অংশ নেন।

তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে, হাকালুকি হাওড়ের ৪০টি বিলে জলচর পাখিশুমারি করা হয়েছে। সর্বমোট ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি জলচর পাখি পাওয়া গেছে। পাখির সংখ্যা ২০১৮ ও ২০১৭ সালের চেয়ে কম (যথাক্রমে ৪৫,১০০ ও ৫৮,২৮১) কিন্তু তার আগের ৩ বছরের চেয়ে বেশী।

হুমকির মুখে আছে এমন ছয় প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে মহাবিপন্ন বেয়ারের-ভুতিহাঁস; সংকটাপন্ন – পাতি-ভুতিহাঁস ও বড়-গুটিঈগল; এবং প্রায় সংকটাপন্ন মরচেরঙ-ভুতিহাঁস, ফুলুরি-হাঁস ও কালামাথা-কাস্তেচরা।

পাখিসমৃদ্ধ বিলের মধ্যে নাগুয়াধলিয়া বিল ১ম (৮হাজার ৬৭৬টি পাখি) এবং চাতলা বিল ২য় (৫ হাজার ৩২৭টি পাখি)। জলচর পাখিদের মধ্যে মাত্র ৪০৫টি সৈকত পাখিও ছিল।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএন বাংলাদেশ এই পাখিশুমারির আয়োজন করেছিল। শুমারিতে অংশগ্রহণ করেছেন ডঃ পল থমসন, ইনাম আল হক, মোহাম্মদ ফয়সাল, ওমর শাহাদাত, সাকিব আহমেদ, বশীর আহমেদ ও তারেক অণু।

হাওয়াবন্যা, কালাপানি, রঞ্চি, দুধাই, গড়কুড়ি, চোকিয়া, উজান-তরুল, ফুট, হিংগাউজুড়ি, নাগাঁও, লরিবাঈ, তল্লার বিল, কাংলি, কুড়ি, চেনাউড়া, পিংলা, পরোটি, আগদের বিল, চেতলা, নামা-তরুল, নাগাঁও-ধুলিয়া, মাইছলা-ডাক, চন্দর, মালাম, ফুয়ালা, পলোভাঙা, হাওড় খাল, কইর-কণা, মোয়াইজুড়ি, জল্লা, কুকুরডুবি, বালিজুড়ি, বালিকুড়ি, মাইছলা, গড়শিকোণা, চোলা, পদ্মা, কাটুয়া, তেকোণা, মেদা, বায়া, গজুয়া, হারামডিঙা, গোয়ালজুড় – হাকালুকি হাওড়ের এই ৪০টি বিলে পাখিশুমারি চলে।

হাকালুকি হাওরটি কোন উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় অরক্ষিত হাওরে বিষটোপ আর ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করায় দিন দিন অতিথি পাখির সমাগম কমছে। মৎস্য অভয়াশ্রম থাকলেও সেই অভয়াশ্রমগুলোতে শিকারিরা হানা দেয়। হাওরের ইকো সিস্টেম রক্ষায় অবিলম্বে হাওরকে উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি হাওর তীরের মানুষের।#