ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯
Home » কৃষি » শখের ব্রোকলি চাষে ব্যাপক সাফল্য উচ্ছ্বসিত কুলাউড়ার চাষি রান্টু

শখের ব্রোকলি চাষে ব্যাপক সাফল্য উচ্ছ্বসিত কুলাউড়ার চাষি রান্টু

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৩ ফেব্রুয়ারি ::

রান্টু কুমার চন্দ একজন সৌখিন চাষি। টেলিভিশনে ব্রোকলি চাষের খবর দেখে বীজ সংগ্রহ করে ৮ শতক জমিতে চাষ করেন ব্রোকলি। বাম্পার ফলন দেখে নিজেও হতবাক। কৃষি বিভাগের কোন রকম পরামর্শ ছাড়া এবং কীটনাশক কিংবা রাসায়নিক সার প্রয়োগ ছাড়াই ব্রোকলি চাষ করেন চাষি। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, আগামীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতেই ব্রোকলি চাষ হবে কুলাউড়ায়।

কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের কিয়াতলা গ্রামের বাসিন্দা রান্টু কুমার চন্দ। লেখাপড়া মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে চাকরির প্রতিক্ষায় দিন কাটছে। একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতাও করেন। পাশাপাশি পরিবারের চাহিদা পূরণে টুকটাক সব্জি চাষ করেন।

সরেজমিন কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুরে গেলে ব্রোকলি চাষি রান্টু কুমার চন্দ জানান, একটি টেলিভিশনে ব্রোকলি চাষ ও এর পুষ্টি গুণের কথা শুনেই আগ্রহ জাগে ব্রোকলি চাষে। কুলাউড়া শহরের একটি বীজঘর থেকে ২১০ টাকায় ২৫০ গ্রামের এক প্যাকেট বীজ কিনেন। সেই বীজ থেকে গজানো চারা ৮ শতক জমিতে রোপন করেন। এখন পর্যন্ত সেই লাগানো চারা থেকে ৭ শত ব্রোকলি গাছ বড় হয়ে তাতে ফুল এসেছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, ভিটামিন ‘সি’ প্রচুর পরিমাণে এবং ক্যালসিয়াম ও লৌহ বিদ্যমান রয়েছে। ব্রোকলির উৎপত্তি ইতালিতে। ব্রোকলিকে ইতালিয়ান ব্যোকলি বলা হয়। ব্রোকলি (ইংরেজিতে ইৎধংংরপধ ড়ষবৎধপবধ াধৎ. ষঃধষরপধ) বা সবুজ ফুলকপি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন কপি গোত্রের সবজি। কিছুদিন আগেও এই ব্রোকলি বাংলাদেশের লোকের কাছে অপরিচিত ও অপ্রচলিত সবজি ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটা লাভজনক হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কপি গোত্রের অন্যান্য সবজির চেয়ে ব্রোকলি অপেক্ষাকৃত বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ ও ক্যান্সার প্রতিরোধক।

রান্টু কুমার চন্দ জানান, কিন্তু ব্রোকলি পর্যায়ক্রমে কয়েকবার সংগ্রহ করা যায় বলে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। এর দামও ফুলকপির চেয়ে বেশি। প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ইতোমধ্যে খুচরা ১০ কেজি বিক্রি করেছেন। এলাকার মানুষ ও ঘনিষ্টজনদের মাঝে বিতরণ করছেন। এমনকি উপজেলা কৃষি অফিসারকেও দিয়েছেন। ৭শ গাছ থেকে তিনি সর্বনিম্ন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করবেন বলে আশাবাদী।

এদিকে রান্টু কুমার চন্দ ছাড়াও সিএনআরএস এর সুচনা প্রকল্পের উপজেলা কো অর্ডিনেটর মো. তৌহিদুর রহমান জানান, সুচনা প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের সাজনা বেগম, বরমচাল ইউনিয়নের নন্দিতা চক্রবর্তী, আফিয়া বেগম, ও রিমা রানী দাস ব্রোকলির পরীক্ষামুলক (প্রদশর্নী) চাষ করেন। ব্রোকলি চাষিরা সাফল্যও পেয়েছেন।

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসার জগলুল হায়দার জানান, সুচনা প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রোকলির পরীক্ষামুল চাষ চলছে। এ থেকে কৃষকরা যদি লাভবান হয় এবং আগামীতে ব্রোকলি চাষে আগ্রহী হয়, তাহলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। আগামীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্রোকলি চাষ হবে বলে তিনি আশাবাদী।#