- Uncategorized

ইতিহাস গড়তে চান চা কন্যা গীতা

সাজু মারছিয়াং, ০৫ ফেব্রুয়ারি ::

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথম  চা শিল্প অধ্যুষিত জনগোষ্টি থেকে একজন নারী শ্রমিক এবং  নারী নেত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। আর তাঁর এ মনোনয়নপত্র ক্রয় করার খবরে পুরো চা শ্রমিক জনগোষ্টির মধ্যে বইছে বিপুল উৎসাহ – উদ্দীপনা ।।

তাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর হয়ে কথা বলার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই প্রথম বারের মতো সাংসদ হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন গীতা রাণী কানু নামের চা জনগোষ্ঠির এক নারী।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মহাসংগ্রাম কমিটির আহবায়ক কাঞ্চন পাত্র জানান, প্রতিদিন ১০২ টাকা হারে মজুরীপ্রাপ্ত জুলেখানগর চা বাগানের এ শ্রমজীবি নারী বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। নারী নেত্রী হিসেবে তিনি চা শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন ২০১৪ সাল থেকে, চা বাগানের সমগ্র শ্রমিকের ৭০% নারী শ্রমিকের কল্যানে ও তাদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক নারী ফোরাম, বর্তমানে তিনি এ সংগঠনের আহবায়ক হিসেবে নারীদের জন্য কাজ করে চলেছেন।

ক্ষুদ্র নৃ–তাত্বিক জনগোষ্টির সংগঠন ‘বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামে’র সহ–সভাপতি জিডিশন প্রধান সুছিয়াং বলেন, চা শিল্প জনগোষ্টি ও চা শ্রমিকদের ন্যায্য ভূমি অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের নিয়ে মাঠে নামেন ২০১৫ সালে হবিগঞ্জের লস্করপুর ভ্যালীতে। তার সেই অবদান ও প্রতিবাদী রুপের কথা ভোলেনি চা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ – জনগোষ্টির মানুষেরা, তারাই নিজেরা চাঁদা সংগ্রহ করে দরিদ্র এই নারীর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কেনার জন্য ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে হবিগঞ্জ – সিলেটের আসন থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি। তার বাড়ী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কুরমা চা বাগানে।

এই নারী আশায় বুক বেঁধেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা জনগোষ্টির জনগনের ভোটাধিকার দিয়েছিলেন, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা শিল্প অধ্যুষিত জনগোষ্টি ও চা শ্রমিকদের প্রাপ্তি – অপ্রাপ্তি, না বলা কথা সর্বোপরি নারী সহ সকল মানুষের উন্নয়নের চিত্র ও আরো কিভাবে উৎকর্ষ সাধন করা যায় সে বিষয়ে মহান জাতীয় সংসদে তুলে ধরার সুযোগ দিয়ে অনন্য ইতিহাস তৈরী করবেন এটাই আশা করছি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচিত হলে চা বাগান থেকে মাদককে চিরতরে নির্মুল করাই থাকবে আমার নির্বাচনী প্রধান এজেন্ডা, এছাড়া চা শিল্প কেন্দ্রিক সকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে আ্যকশনে নামতে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ।’ এছাড়া, এ আসনের প্রত্যেকটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিকাশে, নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট থাকবেন বলে জানান।

বর্তমান চলমান উন্নয়নকে আরো বেগবান করতে নারী প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *