ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯
Home » জাতীয় » সিলেটে এসএসসি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে ৩ ও ৪ নং সেটে : অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ

সিলেটে এসএসসি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে ৩ ও ৪ নং সেটে : অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ

স্বপন কুমার দেব, মৌলভীবাজার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ::

এবছর সিলেট বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে প্রশ্ন নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বাংলা ১ম ও ২য় পত্রের প্রশ্ন যথাক্রমে ৩নং ও ৪নং এবং মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত ইংরেজি ১ম পত্র পরীক্ষাও ৩নং সেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিাভাবকরা জানান, ৩ ও ৪নং সেটের প্রশ্ন ঢাকাসহ অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় অনেক কঠিন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আশানুরুপ উওর লিখতে না পারায় ভাল ফলাফল নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী রুহুল আমিন বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে এবার সিলেটের শিক্ষামন্ত্রী না থাকায় কোন মহল পরিকল্পিতভাবে আমাদেও পরীক্ষাগুলো অপেক্ষাকৃত কঠিন (সেট ৩ ও ৪) সেটে নিচ্ছেন। যাতে সিলেট বোর্ডে ফলাফল খারাপ হয়।

বড়লেখা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী দেবরাজ দত্ত বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি ঢাকাও কুমিল্লা বোর্ডেও ইংরেজি ১ম পত্রের প্রশ্ন অনেক সহজ ও কমন প্রশ্ন এসেছে। কিন্তু আমাদের ৩নং সেটের প্রশ্ন অনেক কঠিন ও আনকমন প্রশ্ন এসেছে। এতে প্রায় ৮০-৯০ ভাগ পরীক্ষার্থীর বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষা আশানুরুপ হয়নি। বাংলা পরীক্ষা আশানুরুপ না হওয়া সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সিলেটের শিক্ষা মন্ত্রী বিদায় নেয়ায় সিলেট অঞ্চলের সাথে বিরুপ আচরণ করা হচ্ছে কিনা তা ভেবে দেখা উচিত।

পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্র সচিব জানান, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে ম্যাসেজের মাধ্যমে প্রশ্নে সেট কোড জানান হয়। আমরা সেমোতাবেক প্রশ্নের সেটে পরীক্ষা নিচ্ছি। তিনি স্বীকার করে সাধারণত সেট ১ ও ২ এর তুলনায় সেট ৩ ও ৪ নং সেটের প্রশ্ন কিছুটা আকমন প্রশ্ন থাকে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আমরাও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ ধরণের অভিযোগ পেয়েছি কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের তো কিছুই করার নেই। রাজনগর উপজেলার একজন শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়াতে কিছুটা দূর্বল, তার উপর প্রশ্ন কমন না হলে ফলাফল বিপর্যয় ঘটতে পারে। যে প্রশ্নে এবারের পরীক্ষা হচ্ছে এতে সিলেট বোর্ডে জিপিএ-৫ সহ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন সরকারের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় এভাবে কঠিন প্রশ্নে (আনকমন) নেয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। একটি পাবলিক পরীক্ষাতে সব অঞ্চলের প্রশ্নের মান এক না হলে প্রকৃত মেধা যাচাইও সঠিক হবেনা। অতিশীগ্রই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডকে তদন্ত করে দেখা উচিত বলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকমহল মনে করেন।#