ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯
Home » জাতীয় » সাতক্ষীরায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে চলছে সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

সাতক্ষীরায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে চলছে সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, সাতক্ষীরা, ১২ ফেব্রুয়ারি ::

প্রায় এক যুগ ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে চলছে সাতক্ষীরা সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। এখানে নেই নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা। এক যুগ ধরে নেই হাসপাতালে সরকারি এ্যামবুলেন্স। নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার। যারা আছে তারাও তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে। জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা রোগীদের সাথে খারাপ আচারণ করেন এখানকার কর্মচারীরা। জোর পূর্বক মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে চাঁদা আদায় করেন তারা। এতে রোগী ও তার আত্মীয় স্বজনরা অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন।

ডাঃ লিপিকা সাতক্ষীরা সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আছে ১৮ বছর ধরে। তিনি ঠিক মত দায়িত্ব পালন করে না। তার কর্মচারীরা রোগীর আত্মীয়দের সাথে খারাপ আচারণ করেন। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এসে ডাঃ লিপিকা বিশ্বাসের সাথে দেখা করতে চাইলে আয়ারা বলেন উনি ব্যস্ত আছেন। এখন দেখা করা যাবে না। সিরিয়ালে বসেন, সময় হলে আপনাকে ডেকে দিব। ওই আয়া রোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখেন এবং সে অন্যান্য কাজ করেন। এদিকেই ডাঃ লিপিকা বিশ্বাসের রুমের সামনে গিয়ে তার সাথে দেখা করার চেষ্টা করলে রলা হয় ম্যাডাম এর সাথে এখন দেখা করা যাবে না। তিনি কোম্পানীর লোকদের সাথে কথা বলছেন। খুব অসুস্থ এবং অতি দরিদ্র রোগীরা এখানে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা ও বিনা মূল্যে বিতরন করা ওষুধ নিতে আসে। আয়ারা রোগীর সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করে এবং তারাই দু’ধরনের ওষুধ দিয়ে পরে পুনরায় এসে যোগাযোগ করতে বলেন। হাসপাতালের কর্মচারীরা সব সময় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। কারণে অকারণে বকা ঝকা করেন।

সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ডাঃ লিপিকা বিশ্বাস তার সরকারি কোয়ার্টারে ব্যক্তিগত ফি নিয়ে রোগী দেখেন এবং তারপর থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে রোগী দেখেন। বিকাল ৩টায় থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি পুনরায় তার সরকারী কোয়ার্টারে ফি নিয়ে রোগী দেখেন। এরপর শুরু হয় তার ক্লিনিক ব্যবসা। সন্ধ্যার পর থেকে তিনি শহরের নামি দামি ক্লিনিকে রোগী দেখে থাকেন। ডাঃ লিপিকা তিনি একটি স্লিপ দিয়ে বললেন এখানে গেলে কম খরচে পরীক্ষা হয়ে যাবে। তিনি ইসলামি হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন নামিদামি ক্লিনিকে রোগীদের পাঠান এবং সেখানে অপারেশন করান। সরকারী সেবা কেন্দ্রের রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠানোর জন্য নিয়োজিত আছে ডাঃ লিপিকার ব্যক্তিগত সহকারী।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। গরীব মানুষের পানি কিনে খাওয়ার সামর্থ নেই। হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বাড়ি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে খায়।

পানির বিষয়ে অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি  জানান, এখানে সবাইকে পানি কিনে খেতে হয়। এখানকার টিউবওয়েল অতিরিক্ত আয়রন রয়েছে এবং হাসপাতালের ভেতরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের সমস্ত প্রকার ময়লা কাপড় চোপড় সেখানেই ধোয়া হয়।#