ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯
Home » জাতীয় » মৌলভীবাজারের ৫ উপজেলায় আ’লীগ বনাম বিদ্রোহী আ’লীগ নির্বাচন

মৌলভীবাজারের ৫ উপজেলায় আ’লীগ বনাম বিদ্রোহী আ’লীগ নির্বাচন

বিএনপি ও জাপার কোন প্রার্থীর তৎপরতা নেই-

এইবেলা, কুলাউড়া , ১৪ ফেব্রুয়ারি ::

মৌলভীবাজার জেলার ৫টি উপজেলায় স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা। অনেকে দলীয় মনোনয়ন না চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন। তবে সদর ও কমলগঞ্জ উপজেলা ছাড়া বাকি ৫টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী একাধিক প্রার্থী হওয়ার কবর পাওয়া গেছে। মৌলভীবাজার জেলায় বিএনপির কোন সমর্থক কিংবা প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ নেই। নেই জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী।

মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সদর ও কমলগঞ্জ উপজেলা ব্যতীত ৫টি উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরমধ্যে বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বড়লেখা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর গত রোববার ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজ বাসায় কর্মিসভা ডেকে নির্বাচনে নেতাকর্মীদের চাপের মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। সোয়েব আহমদ বর্তমান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আহমদের ভাগনা। বড়লেখা উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সুন্দর। এই দু’জন ছাড়াও বড়লেখা থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার সিরাজ উদ্দিন আহমদ। তিনিও নিজ বাড়িতে কর্মী সভা করে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জুড়ী উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান উপজেরা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি। তবে এখানে মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রদিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলের একটি বৃহৎ অংশ। তিনি প্রার্থী হলে বিএনপিসহ দলের বিদ্রোহীদের ভোটে চমক দেখাতে পারেন।

কুলাউড়া উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম। তবে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম শফি আহমদ সলমান উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। সে লক্ষ্যে তিনি জানুয়ারি মাস থেকে গোটা উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার আগে তিনি কুলাউড়ার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় দু’বার গণসংযোগ চালান। দলের মনোনয়নের প্রতি তোয়াক্কা না করে তিনি নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জোরেশোরে। এয়াড়া এই উপজেলায় দু’জন সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। এরা হলেন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নবাব আলী নকি খান ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মহিউদ্দিরন হোসেন।

রাজনগর উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির খান। দলীয় মনোনয় বঞ্চিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মিসবাউদ্দোজা ভেলাই ও আওয়ামী লীগ নেতা ও মনসুর নগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহজাহান স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে শুনা যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব। দলে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কৃষক লীগ সভাপতি আফজল হক চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তিনি নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি ও সমমনা এন্ট্রি আওয়ামী লীগের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষতক চমক দেখাতে পারে।#