ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯
Home » জাতীয় » স্বাভাবিক প্রসব সেবায় কুলাউড়ার মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিক আবারও সেরা

স্বাভাবিক প্রসব সেবায় কুলাউড়ার মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিক আবারও সেরা

এইবেলা, কুলাউড়া, ২০ ফেব্রুয়ারি ::

কুলাউড়া উপজেলার মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে ২০১১ সালে স্বাভাবিক প্রসব করানো এবং নারীদের উদ্বুদ্ধ করায় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন ক্লিনিকটি পরিদর্শণ করেন। ২০১৯ সালে এসে আবারও মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি স্বাভাবিক প্রসব সেবায় অবদানের জন্য সেরার স্বীকৃতি পায়। ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ক্রেস্ট ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি করা হয়। এখানে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার হিসেবে কর্মরত আছেন শামসুন নাহার। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১১ সালের জুলাই মাস থেকে স্বাভাবিক প্রসব সেবা শুরু হয়। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই পাল্লাকান্দি গ্রামের হতদরিদ্র পিয়ারুন বেগমের বিনাঅস্ত্রোপাচারে শিশু ইমরানের জন্ম হয়। ওই বছর ১৫ নভেম্বর জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র দেখতে ওই মোবারকপুর ক্লিনিক পরিদর্শণ করেন। সেসময় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন শিশু ইমরানকে কোলে তুলে নেন।

২০১১ থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারিতে ২৬৫ টি শিশুর জন্ম হয়েছে। বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার শামসুন নাহারের সাথে স্বাস্থ্য সহকারী রেহানা বেগমও স্বাভাবিক প্রসব সেবায় সহায়তা করে থাকেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং সিভিল সার্জন ডা. শাহজাহান কবীর চৌধুরীর সম্মিলিত উদ্যোগে কুলাউড়া উপজেলার মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার শামসুন নাহারকে চমৎকার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ একটি সুদৃশ্য ক্রেস্ট এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল হক জানান, এটা তাদের একটা কাজের স্বীকৃতি। এটা পাওয়ার পর তাদের দায়িত্ব আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরতরা তাদের সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, মোবারকপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসব সেবা ছাড়াও মা ও নবজাতকের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো, প্রসূতিদের প্রতিষেধক টিকা দেয়া, সবধরনের চিকিৎসা সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়।##