মার্চ ৯, ২০১৯
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » রাজনগরের বালুমহাল থেকে চলছে বালু লুটপাট

রাজনগরের বালুমহাল থেকে চলছে বালু লুটপাট

অভিযোগের তীর স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে-

এইবেলা, রাজনগর, ০৯ মার্চ  ::

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় সরকারী বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে অবাদে চলছে বালু লুটপাট। উপজেলা প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও থামানো যাচ্ছে না লুটেরাদের। গত ৬ বছরে এসব বালু মহাল থেকে সরকার কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা এসব মহাল থেকে বালু লুট করছেন। মনু নদীর দুই অংশ ছাড়া রাজনগর উপজেলার ধামাইছড়া, কালামুহা, জমিলা ছড়া, হারছড়া, পুরানলি ছড়া, উদনা ছড়া বালু মহাল গত ৭ বছর থেকে ইজারা বন্দোবস্ত দেয়া হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৭টি বালু মহালের সর্বশেষ ইজারা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর একটি পক্ষ মামলা করলে ইজারা বন্দোবস্ত স্থগিত হয়ে যায়। শুধু মনু নদীর অংশ ও উদনা ছড়া বালু মহাল ইজারা বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছিল। কালামুহা বালু মহাল উত্তরভাগ চা বাগান কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক লিজ প্রদান স্থগিত করলেও সেখানে প্রতিনিয়ত চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। উপজেলার বাকি বালুমহালগুলোয় ‘বেলা’র করা মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পরও লিজ প্রদান না করায় দৌরাত্ম্য বেড়েছে লুটেরাদের। গত ৭ বছর থেকে উপজেলার ধামাইছড়া, কালামুহা, জমিলা ছড়া, হারছড়া, পুরানলি ছড়া, উদনা ছড়া বালু মহালের লিজ না হওয়ায় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এসব বালু মহালের একেকটির ইজারা মূল্য ৪ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। গত ৭ বছরে এসব বালুমহাল থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে রাজস্ব লুট করছেন। ফলে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।

এদিকে এসব বালু মহাল থেকে লুটপাট বন্ধ করতে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন প্রায়ই অভিযান চালায়। কিন্তু এরপরও থামছে না বালু লুট। গত ৭-৮ মাসে মোবাইল কোর্টসহ ৭টির মতো অভিযান চালানো হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন বলছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এসব মহালের বালু লুটের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। অভিযানের পরপরই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা চলে আসেন তদবিরে। ফলে সবসময়ই লুটেরারা থাকে বেপরোয়া।

রাজনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুর রহমান মামুন জানান, বারবার অভিযান হচ্ছে, এরপরও লুটেরাদের থামানো যাচ্ছে না।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহি অফিসার ফেদৌসী আক্তার জানান, মামলার কারণে লিজ প্রদান স্থগিত ছিল। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পত্র লিখবো যাতে দ্রুত লিজ দেয়া যায়।#