মার্চ ১৫, ২০১৯
Home » জাতীয় » লাউয়ছড়ার গহীনে উচ্চ সাউন্ডে রাতভর গান, হুমকিতে বন্যপ্রাণী!

লাউয়ছড়ার গহীনে উচ্চ সাউন্ডে রাতভর গান, হুমকিতে বন্যপ্রাণী!

এইবেলা, কমলগঞ্জ, ১৫ মার্চ : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১টা পর্যন্ত উচ্চ স্বরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে বন সংলগ্ন ব্যক্তিগত একটি লেবু বাগানে সাউন্ড সিস্টেমে রাতভর বসে গানের আসর। গানের আসর চালানোর কারনে প্রকৃতির নিরব নি:স্তব্দ পরিবেশে বন্যপ্রাণীর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। গানের উচ্চ স্বরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়ায় বসবাসরত স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ কিছুই জানে না।

জানা যায়, একটি প্রভাবশালী মহল জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে খুঁটি বসিয়ে বিদ্যুৎ লাইন লেবু বাগানে স্থানান্তর করে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি লেবু বাগানে সাউন্ড সিস্টেমে উচ্চস্বরে জমজমাট গানের আসর বসে। জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ গেটসহ বিভিন্ন স্থানে মাইক বাজানো ও হাল্লা-চিৎকার করা যাবে না বলে সতর্কতা রয়েছে। তাছাড়া বনের ভেতর দিয়ে লেবু বাগানে বিদ্যুৎ লাইন স্থানান্তর নিয়ে ইতিপূর্বে বিতর্ক দেখা দিলে বিদ্যুতায়নের কাজ সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে। বনের ভিতর পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করে কোন কাজ করা যাবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করলেও তা রোধ করা সম্ভব হয়নি।

লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির সদস্যরা জানান, প্রধান ফটক দিয়ে সন্ধ্যার পর একটি পিকআপ যোগে সাউন্ড সিস্টেম প্রবেশ করে উদ্যানের ভিতরের একটি লেবু বাগানে যায়। সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলো একটি আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রামে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে উচ্চ স্বরে রাত ১টা পর্যন্ত চলে গান বাজনা। ফলে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে বলে জানান খাসিয়া সদস্যরা।

মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ বলেন, বনের মধ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন লেবু বাগান থাকা ঠিক নয়। উদ্যানের ভিতরের বন্যপ্রাণী সাধারণত রাতে বিচরণ করে। এখানে মাইকের আওয়াজ, হাল্লা-চিৎকার সম্পূর্ণ নিষেধ। এ বনে রাতে সাউন্ড সিস্টেমে উচ্চস্বরে গান বাজনা বন-পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হবে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবস্থান করেও বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। তবে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় সহকারী বন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ বা খবর জানেন না। খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।