- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, রাজনীতি, স্থানীয়, স্লাইডার

রাত পোহালেই ভোট : কুলাউড়ায় চেয়ারম্যান পদে হবে ত্রিমুখী লড়াই

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৭ মার্চ ::

কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ত্রি-মূখী লড়াই হবে বলেই মনে করছেন ভোটাররা। শেষ সময়ে প্রচারণায় এমন আভাস মিলছে। শেষমহুর্তের নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের সমিকরণ মেলাতে ব্যস্ত সবাই। আর ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে প্রার্থী সংখ্যা ৮ জন হওয়ায় এই পদে সমিকরণটা বেশ জটিল। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ৩ জন হলেও লড়াই হবে দ্বিমূখী।

১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে কুলাউড়া উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ২৬৭ জন। চা শ্রমিক অধ্যুষিত কুলাউড়া উপজেলায় জয় পরাজয়ে চা শ্রমিকদের ভোট গড়ে দেয় ব্যবধান। নতুন ৪টি ভোটকেন্দ্রসহ ৯৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণেও প্রস্তুত প্রশাসন। আর সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনও মতবিনিময় করেছে প্রার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের সাথে।

২য় দফা অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কুলাউড়া উপজেলায় যেকোন নির্বাচনকে নিয়ে এলাকা ও গোটা জেলাজুড়ে মানুষের বিশেষ নজর থাকে। এবার জেলার অন্য উপজেলা থেকে কুলাউড়ায় ৩ হেভিওয়েট প্রার্থী নিয়ে ভোটারসহ গোটা জেলায় চলছে আলোচনা। সবার নজরও কুলাউড়ার প্রতি।

কুলাউড়া উপজেলায় নৌকার কান্ডারি ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আসম কামরুল ইসলাম। তবে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও শেষতক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি আহমদ সলমান। লড়াই করছেন আনারস প্রতিক নিয়ে। তাদের সাথে অপর প্রার্থী কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নবাব আলী নকী খান। ঐতিহ্যবাহী নবাব পরিবারে এই সদস্য লড়ছেন দোয়াত কলম প্রতিক নিয়ে।

কুলাউড়া ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়ন কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে। এই ইউনিয়নগুলোর জনসাধারণের ভোট নিয়ে আঞ্চলিকতার প্রভাব দেখিয়ে বিজয়ী হতে চান নবাব আলী নকী খান। সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টি কাজি জাফর গ্রুপের প্রেসিডিয়াম সদস্য নবাব আলী আব্বাছ খানও মাঠে কাজ করছেন নিজের ছোট ভাই নবাব আলী নকী খানকে বিজয়ী করতে। তাছাড়া বিএনপি, জাতীয় পার্টির ভোটরদের মন জয় করে বিজয় সুনিশ্চিত করতেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে কুলাউড়ার সর্বত্রই আলোচনায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমদ সলমানের আনারস। যেভাবে ভোটারদের মুখে মুখে আনারসের আলোচনা, তা যদি বাস্তবে রূপ নেয় তাহলে আনারসের বিজয় অনেকটাই সুনিশ্চিত। নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার আগ থেকেই তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। ভোটাররা বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছেন।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলায় দ্বিমুখী নির্বাচন হলে নৌকার ভরাডুবি। আর ত্রিমুখী নির্বাচনে নৌকার বিজয় অনেকটা সুনিশ্চিত থাকে। কেননা চা বাগান আর হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট নৌকার বিজয়কে অনেকটা সুনিশ্চিত করে। যদিও পাওয়া না পাওয়া কিংবা উন্নয়ন বঞ্চনার অনেক ক্ষোভ ও মান-অভিমান নৌকার বিরুদ্ধে। তারপরও শেষ হাসি নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম হাসতে পারেন। তবে প্রথমদিকে নৌকার প্রতি ভোটাররা ক্ষোভ জানালেও শেষদিকে এসে প্রার্থীর বিচারে এগিয়ে রাখছেন আসম কামরুল ইসলামকে।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে লড়ছেন ৮ প্রার্থী। এরমধ্যে ভোটারদের কাছে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদের বই প্রতিক, চা শ্রমিক রাজ কুমার কালোয় রাজুর চশমা প্রতিক, আহবাব হোসেন খান রাসেলের টিউবওয়েল প্রতিক, অরবিন্দু ঘোষ বিন্দুর তালা প্রতিক, মতিউর রহমান মতইর উড়োজাহাজ প্রতিক, মাহবুবুর রহমান মান্নার মাইক।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগমের ফুটবল প্রতিকের সাথে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে পপি চৌধুরীর হাঁস প্রতিকের। তবে অপর প্রার্থী শাহানা আক্তার কলসি প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *