- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়া কলেজে ছাত্রদল নেতার প্রতারণায় ৫ পরীক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত!

এইবেলা, কুলাউড়া, ২৩ মার্চ ::

কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ৫ শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে তাদের এইচএসসি পরীক্ষা দেয়া এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, ছাত্র-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ফরম পূরণের নির্দিষ্ট টাকার চেয়ে অর্ধেক পরিমাণ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করা যায় এই মর্মে কুলাউড়া সরকারি কলেজের ৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ছাত্রদল নেতা সাইফুর রহমানের কাছে টাকা জমা দেয়। কিন্তু ওই নেতা কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেননি। ফলে পাঁচ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়নি। শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রবেশপত্রও আসেনি। এদিকে ১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এ অবস্থায় ওই ৫শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে সিলেটের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অনলাইনে ফরম পূরণের নির্দেশনা দেয়। বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ২ হাজার ৪৬০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য ২ হাজার ২৩০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কলেজের মাসিক বেতন ২০০ টাকা। ফরম পূরণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি’র সঙ্গে বকেয়া বেতন ও ভর্তি ফি (একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি) পরিশোধ করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়।

এ কারণে অনেক শিক্ষার্থীর মোট ফি ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা হয়ে যায়। কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী জামিল হাসান, দেলোয়ার হোসেন, প্রিয়াংকা চন্দ, সুইটি আক্তার এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মো. আবু বকরকে কুলাউড়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুর রহমান কম টাকায় তাদের এ কাজ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

সাইফুরের দাবি অনুযায়ী জামিল ৩ হাজার টাকা, দেলোয়ার হোসেন ৬ হাজার টাকা, প্রিয়াংকা চন্দ ৪ হাজার টাকা, সুইটি আক্তার ৪ হাজার টাকা এবং আবু বকর ৪ হাজার টাকাসহ মোট ২১ হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেন। ২০ মার্চ বুধবার কলেজে বোর্ড থেকে পাঠানো পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু, ওই পাঁচ পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি। পরে কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারেন, ফরম পূরণ না হওয়ায় প্রবেশপত্র আসেনি।

শিক্ষার্থী জামিল হাসান, দেলোয়ার হোসেন ও আবু বকর বলেন প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা সাইফুরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু, তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাসনপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে কলেজে একটি সিন্ডিকেট চক্র বিভিন্ন ছাত্র রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ, কলেজ ও শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন ফি কম করে দেয়ার নাম করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায়। কলেজ প্রশাসনের চোখের সামনে এই চক্র এমন কাজ করলেও কর্তৃপক্ষ কেন নীরব ভূমিকা পালন করে এমন প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাইফুর রহমান জানান, বেতনসহ ফরম পূরণে অনেক শিক্ষার্থীর নয় থেকে দশ হাজার টাকা আসে কিন্তু স্যারদের কাছে গেলে তারা এক হাজার থেকে পনের শত টাকার বেশি কমান না। গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের এতো টাকা দেবার সামর্থ্য না থাকায় তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা স্যারদের সাথে কথা বলে নির্দিষ্ট টাকার চেয়ে অনেক কম টাকায় ফরম পূরণ করে থাকি। এই বছর আমি কলেজের ৮২জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে জমা দেই। কিন্তু কলেজের শিক্ষকদের চরম গাফিলতির কারণে এই শিক্ষার্থীদের প্রবশপত্র আসেনি।

কুলাউড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল জানান, কলেজে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ছাত্রনেতারা এ কাজ করে আসছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজের ফরম ফি ও অন্যান্য ফিসহ নির্দিষ্ট টাকার চেয়ে কম টাকা এনে তাতেও নেতারা ভাগ বসায়। শিক্ষার্থীরা সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারতো। ওই পাঁচ শিক্ষার্থীর এই মুহূর্তে কোনো সুযোগ নেই। তারপরও ফরম পূরণের ব্যাপারে বোর্ডে সুপারিশ করেছি। বোর্ড কি সিদ্ধান্ত দেয় জানি না। বাকিদের বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *