এপ্রিল ৪, ২০১৯
Home » জাতীয় » সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে শপথ : মোকাব্বিরকে ‘গেট আউট’ বলে অফিস থেকে বের করলেন ড. কামাল

সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে শপথ : মোকাব্বিরকে ‘গেট আউট’ বলে অফিস থেকে বের করলেন ড. কামাল

সেলিম আহমেদ, ঢাকা, ০৪ এপ্রিল ::

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়ার দু’দিনের মাথায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে এসে তোপের মুখে পড়লেন সিলেট-২ আসন থেকে ঐক্যফ্রন্টের সমর্থিত গণফোরামের দলীয় উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে বিজয়ী মোকাব্বির খান। এসময় ড. কামাল হোসেন উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করে নিজ চেম্বার থেকে তাকে ‘গেট আউট’ বলে বের করে দেন।

০৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টায় ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে মোকাব্বির খান দেখা করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

এ সময় ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে উপস্থিত ছিলেন— গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু।

ঘটনার পত্যক্ষদর্শী জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা নিলু চৌধুরী বলেন, ‘‘আমি স্যারের কক্ষেই ছিলাম ওই সময়ে। মোকাব্বির খান অফিসে প্রবেশ করে স্যারকে সালাম দিতেই স্যার চরম রাগান্বিত হয়ে বলেছেন, আপনি কেন এসেছেন? আপনি বিশ্বাসঘাতক, আপনি জাতির সঙ্গে, দলের সঙ্গে, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে এবং গোঠা দেশের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাঘাতকতা করেছেন। আপনি মিথ্যাবাদী, প্রতারক। অফিস থেকে এখনই বেরিয়ে যান- গেট আউট, গেট আউট। আমার অফিস ও চেম্বার আপনভর জন্য চিরতরে বন্ধ।”

এ সময় তিনি তার অফিসের কর্মচারীদের বলেন, ‘এই বিশ্বাস ঘাতক বেঈমানকে কখনো আমার অফিসে ঢুকতে দিবা না’।

এ প্রসঙ্গে মোকাব্বির খান বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। পারিবারিক সম্পর্ক। আমি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। দেখাও করেছি। তিনি আমাকে দেখে উত্তেজিত হয়েছেন কিংবা অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন এটা মিথ্যা কথা। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবীণ আইনজীবি ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি, জেএসডি, নাগরিক ঐক্যসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠন করা হয় বৃহত্ মোর্চা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নানা নাটকিয়তা শেষে জোটটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভরাডুবির মধ্যে পড়ে। ৩শত আসনের মধ্যে মাত্র ৮টি আসনে পায় জয়ের দেখা। এদের মধ্যে দু’জন গণফোরামের আর বাকি ৬জন বিএনপির। এ নির্বাচনে জামানত হারা অধিকাংশ শীর্ষনেতারা। নির্বাচনের দিনই ভোটের ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন ভয়কট করে জোটটি। সীদ্ধান্ত হয় জোটের বিজয়ী কেউই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শপথ নিবেন না। কিন্তু তা মানেন নি গণফোরামের দুই বিজয়ী।

জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করেই গত ৭ মার্চ শপথ নেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে বিজয়ী গণফোরামের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। তারই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার শপথ নেন সিলেটের-২ আসন থেকে গণফোরামের দলীয় উদীয়মান সূর্য প্রতিক নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সমর্থিত প্রার্থী মোকাব্বির খান।

এদিকে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান শপথ নেয়ার পর সুলতানকে দল থেকে বহিস্কার করা হলেও মোকাব্বির খানকে এখনো বহিস্কার করেনি দলটি।

আগামী ২০ এপ্রিল গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, সিলেট-২ আসনে ঐক্যফ্রণ্টের মনোনয়ন দেয়া হয় নিখোঁজ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াছ আলীর স্ত্রী তাহসিনা রশিদ লুনাকে। আদালতের রায়ে লুনার প্রার্থীতা বাতিল হলে, বিকল্প প্রার্থী গণফোরামের মোকাব্বির খানকে সমর্থন করে জোটটি। নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ীও হন তিনি।#