এপ্রিল ১০, ২০১৯
Home » জাতীয় » রাজনগরে বিদ্যালয়ের নাম নিয়ে বিরোধ- চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা

রাজনগরে বিদ্যালয়ের নাম নিয়ে বিরোধ- চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা

এইবেলা, রাজনগর, ১০ এপ্রিল ::

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। উভয় পক্ষ এলাকায় প্রতিবাদ সভা করছেন। বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলার জেরে এলাকায় ক্ষোভ উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের টেংরা বাজারে গত ডিসেম্বর মাসে ‘টেংরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ নামেই শিক্ষক নিয়োগ অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করা হয়। চলতি শিক্ষাবর্ষে ২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। পরে গত শালন গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী ভূমি দানের শর্তে ‘আরজান খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ নামকরণের প্রস্তাব দেয়া হয়। সে আলোকে বর্তমান চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে আরজান খান বিদ্যালয়ের নামে ৭৫ শতাংশ জমি (৫০৫/১৯ নং দলিলে) দান করেন আমেরিকা প্রবাসী আরজান খান। পরে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে ‘আরজান খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সাইবোর্ড লাগানো হয়। এদিকে বিদ্যালয়ে নাম পরির্তন নিয়ে এলাকায় দু’পক্ষ হয়ে যায়। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে নতুন নামের বিরোধিতা করে বিদ্যালয়ের আরজান খান নামের নতুন সাইনবোর্ড নামিয়ে দেয়া এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয় বলে মৌলভীবাজার আদালতে পিটিশন নং ১০৪/২০১৯ ভূমি দাতার শ^শুর ও বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল ফয়েজ উল্লেখ করেন।

এ মামলায় টেংরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু খান ও তার ২ ভাইসহ মোট ৭ জনকে আসামী করা হয়। মামলায় বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড নামানো ও ভাঙচুরসহ ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও আনা হয়। আদালত অভিযোগের শুনানী শেষে রাজনগর থানার ভারপ্রাপাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি এফআইআর করত: আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের আলোকে রাজনগর থানায় মামলাটি ডায়রিভুক্ত (নং ৮/৯২ (রাজ) করা হয়েছে।

এদিকে মামলায় চেয়ারম্যানকে আসামী করায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এনিয়ে চেয়ারম্যনের পক্ষের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিবাদ সভা করেন। সভায় অনতিবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়।

এব্যাপারে মামলার বাদী আরজান খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল ফয়েজ জানান, নিয়ম-নীতির ভিত্তিতেই সবকিছু হয়েছে। চেয়ারম্যান ২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর জীবন নিয়ে চিনিমিনি খেলছেন। আরজান খান টাকা না দেয়ায় তিনি নিজে মিটিং করে গিয়ে বিদ্যালয়ের ভাঙচুর করেছেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি এর বিরোধিতা করেছে। ছাত্রদের লেখাপড়ার যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্যই মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।

টেংরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. টিপু খান জানান, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তারিখে আমি ঢাকায় ছিলাম। ঢাকা থেকে আসার পর এলাকার লোকজন বিষয়টি জানিয়েছেন। এলাকার লোকজনের দাবি টেংরা আদর্শ বিদ্যালয় যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। আমি অনেকবার সবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু উনারা টালবাহান শুরু করে। এনিয়ে বসেনি।

রাজনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম জানান, আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এঅসআই জাহাঙ্গির আলম মামলাটি তদন্ত করছেন। #