এপ্রিল ২১, ২০১৯
Home » জাতীয় » কুলাউড়ায় প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে চা বাগানের জায়গায় পাকাঘর নির্মাণের অভিযোগ

কুলাউড়ায় প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে চা বাগানের জায়গায় পাকাঘর নির্মাণের অভিযোগ

এইবেলা, কুলাউড়া, ২১ এপ্রিল ::

কুলাউড়া উপজেলার ঝিমাই চা বাগানের জায়গায় প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পাকাদালান ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চা চাষ সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে বাগান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে প্রতিকার চেয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শুনানী করে উপজেলা প্রশাসন। খাসিয়ারাদেরকে বাগানের লিজভুক্ত জায়গায় পাকাঘর নির্মাণে নিষেধ করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে বাগানের অভ্যন্তরে ১০-১২ টি পাকাঘর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে খাসিয়াারা।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ৬৬১ একর জায়গা সরকারের কাছ থেকে লিজ গ্রহণ করে ঝিমাই চা বাগান কর্তৃপক্ষ চা চাষ করে আসছে। কিন্তু বাগানের একটি অংশে খাসিয়ারা পান ঝুম করে অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে । কিন্তু সম্প্রতি খাসিয়ারা ১০-১২ পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ঝিমাই বাগানের ব্যবস্থাপক মো: মনিরুজ্জামান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত ৩ এপ্রিল উভয় পক্ষকে নিয়ে কুলাউড়ার ইউএনও কার্যালয়ে শুনানী করেন। খাসিয়ারা শুনানীতে উপস্থিত হলেও তাদের পক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অপরদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ সরকার থেকে প্রাপ্ত ২০৫২ সাল পর্যন্ত ৬৬১ একর জায়গার লিজের ডকুমেন্ট উপস্থাপন করেন। পরে ইউএনও খাসিয়াদেরকে বাগানের জায়গায় সকল ধরনের স্থাপনা বন্ধের নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেন।

সরেজমিনে ঝিমাই চা বাগানে গেলে দেখা যায়, চর্তুদিকে চা বাগান। আর মাঝখানের টিলায় খাসিয়ারা বসতি স্থাপন করেছে। ৩০-৩২টি পরিবার বাগানের জায়গায় বসতি স্থাপন করে করে পান চাষ করছে। প্রথমে ফিল খাসিয়া নামক এক খাসিয়া বসতি স্থাপন করেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছেলে রানা সুরং পুঞ্জির হেডম্যানের দায়িত্ব নেন এবং সে ও তার আতœীয়স্বজন মিলে সম্প্রতি ১০-১২ টি পাকা ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বাগান কর্তৃপক্ষ কাজে বাঁধা দিলে প্রথমে কাজ বন্ধ রাখলেও পরে আবার কাজ করতে থাকে খাসিয়ারা। এলাকাবাসী খাসিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বাগানের অভ্যন্তরে খাসিয়ারা বসবাস করলেও সরকারকে কোন ধরনের খাজনা দিচ্ছেনা। উপরন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ ৬৬১ একর জায়গায় লিজ ফি, সরকারী ট্যাক্স, ইউনিয়ন পরিষদ ট্যাক্স সবই বহন করে যাচ্ছে। এক সুত্রে জানা গেছে, খাসিয়ারা বাগানের ৬৬১ একর জায়গার মধ্যে ৩৭১ একর জায়গায়ই জবর দখল করে পান চাষ করেছে। শুধূ তাই নয়, খাসিয়ারা পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ধবংস করছে। বিশেষ করে খাসিয়ারা চাবাগান ও বাগান সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকার বণ্যপ্রানী খেয়ে ফেলছে এবং গাছ গাছালি কেটে সাবাড় করছে। প্রতিনিয়ত পুশ পাখি, বন্য মোরগ, সাপ ব্যাংগ ইত্যাদি শিকার করে খাচ্ছে খাসিয়ারা। আর পান চাষ করে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করলেও সরকারি তহবিলে কোন ট্যাক্স দিচ্ছে না।

এব্যাপারে খাসিয়া হেডম্যান রানা সুরংসহ পুঞ্জির অন্য খাসিয়ারা জানান, তাদের বাপদাদারা অনেক আগ থেকে ঝিমাই পুঞ্জিতে বসবাস করছে। তারা পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। জীববৈচিত্র্য কিংবা গাছ গাছালি ধবংস নয় রক্ষা করেই তারা বসবাস করছে।

এব্যাপারে ঝিমাই চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো: মনিরুজ্জামান জানান, খাসিয়ারা সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই আমাদের বাগানের জায়গায় বসতি স্থাপন করছে এবং এতোদিন কাঁচা ঘরে বসবাস করলেও সম্প্রতি তারা পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানোর পর প্রশাসন থেকে নিষেধাজ্ঞা করা হলেও খাসিয়ারা তা মানছে না।

কুলাউড়ার ইউএনও মো. আবুল লেইছ জানান, ঝিমাই চা বাগানের জায়গায় খাসিয়ারা পাকা ঘর নির্মাণের বিষয়টি উধর্¦তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করে খাসিয়াদেরকে পাকা ঘর নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেছি এবং জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।#