- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়ায় যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ

এইবেলা, কুলাউড়া, ৩০ এপ্রিল ::

কুলাউড়ায় যৌতুক লোভী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে অসহায় এক গৃহবধূ। যৌতুকের দাবী মিটাতে না পেরে তাদের ধারা নির্যাতিত হয়ে মৌলভীবাজার আদালতে স্বামীসহ শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যূনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জয়পুর (বেরিগাঁও) গ্রামের আব্দুল মতিনের কন্যা আকলিমা বেগম (২৫) এর সাথে একই ইউনিয়নের কালারয়ের চক নিশ্চিতপুর গ্রামের সোনা মিয়ার পুত্র দুবাই প্রবাসী মখলিছ মিয়ার সাথে ২০১৪ সালের ০১ মে বিবাহ সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর তাদের সংসার সুন্দরমতো চললেও স্বামী মখলিছ মিয়া প্রবাসে ফিরে যাওয়ার পর যৌতুকের বিভিন্ন দাবীতে গৃহবধূ আকলিমার উপর লোমহর্ষক নির্যাতন শুরু হয়। নগদ ৫ লক্ষ টাকাসহ নানা অজুহাতে শ্বশুড়, চাচা শ্বশুড়, চাচী শ্বাশুড়ী ও দেবররা মিলে তাকে যৌতুকের জন্য প্রায় সময় মারধর এবং শারীরিক লাঞ্চিত করে। এক পর্যায়ে গৃহবধূ নির্যাতন সইতে না পেরে তার নিজ পিত্রালয়ে চলে আসে। পরে আকলিমার বাবার বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্বামীর বাড়ির লোকজনকে নিয়ে এক সালিশী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে শ্বশুড় সোনা মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের কথা অস্বীকার করে বলেন তার ছেলে মখলিছ মিয়া দুবাই থেকে কানাডা যাওয়ার ব্যবস্থা করছে। এজন্য তারা ৫ লক্ষ টাকা আকলিমার পরিবারের কাছে দাবী করে। স্বামী মখলিছ প্রবাস থেকে মোবাইল ফোনে জানায় যদি এ টাকা তারা দিতে না পারে তাহলে আকলিমাকে কখনো শ্বশুরালয়ে ফিরিয়ে না নেয়া হুমকি দেয়। এরপর তারা বৈঠক থেকে চলে যায়। তারপরও গৃহবধূ স্বামীর সংসার আসল সংসার ভেবে শ্বশুড় বাড়িতে ফিরে যায়।

কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর ওই টাকার জন্য আবার তার উপর নির্যাত শুরু হলে, খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন গত ২৫ এপ্রিল বিকালে সেখান থেকে উদ্ধার করে অসুস্থ অবস্থায় কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর নির্যাতিতা গৃহবধূ আকলিমা বাদী হয়ে স্বামী মখলিছ, শ্বশুড় সোনা মিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যূনালে ২৯ এপ্রিল সোমবার একটি মামলা (নং-১২৬/১৯) দায়ের করেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *