মে ১২, ২০১৯
Home » জাতীয় » লাউয়াছড়ায় মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ

লাউয়াছড়ায় মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ

সাজু মারছিয়াং, শ্রীমঙ্গল, ১২ মে ::

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মোবাইল টাওয়ার নির্মানের প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গল শহরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে পরিবেশবাদীরা।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শেষে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রীর বরাবরেস্বারকলীপি প্রদান করেন তারা। রোববার সকালে শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনা চত্বরে ‘লাউয়াছড়া জীব বৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন’ কমিটির আয়োজনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সমন্বয়ে উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হয়।

লাউয়াছড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন কমিটির আহবায়ক জলি পালের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাসানের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক দীপেন্দ্র ভট্টাচার্য, শ্রীমঙ্গল মহিলা পরিষদের সভাপতি প্রভাসিনী সিনহা, জেলা ওয়ার্কাস পার্টিও জেলা কমিটির সদস্য সৈয়দ আমিরুজ্জামান, আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক কাজি শামছুল হক,যুগ্ম আহবায়ক তাপস দাস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক আ স ম সালেহ সোহেল, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক জহর লাল দত্ত, কমলগঞ্জ জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির আহবায়ক মঞ্জুর আহমেদ আজাদ মান্না, লাউয়াছড়া খাসি (খাসিয়া) পুঞ্জির গ্রাম প্রধান ফিলা পত্মী, জেলা যুব ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির জয়েস, কবি ও নাট্যকার জহিরুল মিঠু, নাট্য নির্দেশক ফয়সল আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী এসকে দাশ সুমন, কবি ও লেখক জাবেদ ভুঁইয়া। এছাড়াও উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন লাউয়াছড়া ইকো ট্যুর গাইড ও কমলগঞ্জে বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, অজানা আহমেদ কামরান, যুগ্ন আহবায়ক মোঃ আহাদ মিয়া, পরিবেশবাদী ও সংবাদকর্মী সাজু মার্চিয়াং, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ইকো ট্যুর গাইড শাহিন আহমদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদপত্রের সাংবাদিকবৃন্দ।

মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, লাউয়াছড়ায় মোবাইল টাওয়ার বসালে এখানকার জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। এখানে টাওয়ার বসানোর সিদ্ধান্ত মানে বন, ও বন্যপ্রাণী ধ্বংস করা। মোস্তফা জব্বার একজন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে সহজ যোগাযোগের জন্য সারাদেশেই নেটওয়ার্ক বসাতে চাচ্ছেন, কিন্তু সংরক্ষিত বনাঞ্চালে টাওয়ার বসালে যে মোবাইল নেটওয়ার্কের রেডিয়েশনের প্রভাবে বন্যপ্রাণীদের প্রজননে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে সেটাও ওনার ভাবা উচিত। জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে বন আইনে বলা হয়েছে দুই কিলোমিটার এর ভিতর কোন মোবাইল টাওয়ার না বসানোর জন্য। লাউয়াছড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছে এরকম টাওয়ার বসানো বন্যপ্রাণীদের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। পাখির ডিমসহ বনপ্রাণীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ব্যাঘাত ঘটবে পঞ্চানন কমে যাবে বন্যপ্রাণী।

বক্তারা আরো বলেন আমরা মোবাইল টাওয়ার বসানোর বিপক্ষে নই। সেটা যেন বনের বাহিরে হয়। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন ও বন্যপ্রানী রক্ষায় নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে উনার মন্ত্রী সভার একজন মন্ত্রীর এরকম বক্তব্য কিভাবে ফেসবুকে লিখেন। আইসিটি মন্ত্রীর হয়তো বা ধারনায় নেই লাউয়াছড়ায় মোবাইলের টাওয়ার বসালে কি ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবে বন্যপ্রাণী ও তাদের জীববৈচিত্র। উনার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করা যায় না। উনি ফেসবুকে এধরনের মন্তব্য করার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। মন্ত্রীরা এসি রুমে বসে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এই জায়গায় এসে দেখে যাক।

এদিকে মানবন্ধন শেষে বাংলাদেশ বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রীর বরাবরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্মারকলীপি প্রদান করেন তারা।#