মে ১৪, ২০১৯
Home » আন্তর্জাতিক » পর্তুগালে উচ্চ শিক্ষার নতুন দিগন্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য

পর্তুগালে উচ্চ শিক্ষার নতুন দিগন্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য

আবদুর রব ভুট্টো, ১৪ মে ::

ইউরোপে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে টিউশন ফি। যাহা বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বহন করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পর্তুগাল হতে পারে উচ্চ শিক্ষার নতুন দিগন্ত । সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগিজ সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ক্ষেত্রে উদারনীতি প্রনয়ণ করেছে। ২০১৯-২০ সালের জন্য আগের বছরের চেয়ে ২০ ভাগ বেশি অফার লেটার দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিগত বছর প্রায় ১০ হাজার অফার লেটার অনুমোদন করা হয়েছিল বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যে। এবছর সাড়ে ১২ হাজার অনুমোদন করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

বিগত চার বছর ধরে প্রায় ৫০% হারে বিদেশি শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাচ্ছে পর্তুগালে। ২০১৭-১৮ সালে পর্তুগালে ৫০ হাজারের মতো বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলো যা সর্বমোট শিক্ষার্থীর ৬ ভাগের ১ ভাগ।

পর্তুগাল দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের স্বল্প উন্নত রাষ্ট্র। লিসবন পর্তুগালের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। ১৯৮৬ সালে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ে (পরবর্তীকালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন) যোগদান করে এবং ১৯৯৯ সালে মুদ্রা হিসেবে ইউরোকে গ্রহণ করে এদেশটি। দেশটি ২৫ শে জুন ১৯৯১ সালে সেনজেন জোন বা ভিসা মুক্ত অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তি করে নিজেদের।

এখানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তাত্ত্বিক ভিত্তিক, রিসার্চ ওরিয়েন্টেড এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান করে। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর, মাস্টার এবং ডক্টরাল প্রোগ্রাম মূলত পর্তুগিজ ভাষায় পড়ানো হয়। কিন্তু কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে ব্যাচেলর, মাস্টার এবং ডক্টরাল প্রোগ্রামে পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে।

বছরের দুটি সেশনে এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেপ্টেম্বর ও ফেব্রুয়ারি। মূলত সেপ্টেম্বর সেশনে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়। সেপ্টেম্বর সেশনের জন্য নন ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের আবেদনের শেষ সময় মে মাসের ৩০ তারিখ।

কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে জুন পর্যন্ত সময় থাকে। পর্তুগিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তথ্য ও প্রক্রিয়া এই bachelorsportal.eu এবং mastersportal.eu লিঙ্ক থেকে কোর্স সিলেক্ট করা যাবে।

ইন্জেনিয়ারিং, মেডিসিন, ল ,ফার্মাসিউটিকাল সায়েন্স, নেচারেল সায়েন্স, আই টি, ইকনোমিক্স, ব্যবস্থাপনা, হিউম্যানিটিস সহ আরও বেশ কিছু ডিসেপ্লিন রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব কুইমব্রা
পর্তুগালের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি। ১২৯০ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যকশিক্ষার্থী পড়াশোনা করে ইউনিভার্সিটি অব পোর্তোতে।

লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ টি অনুষদের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স ও পি এইচডিতে পড়ছেন। আরো রয়েছে নোভা বিশ্ববিদ্যালয় যেটিকে পর্তুগালের সর্বাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

লিসবনের বাইরে রয়েছে আলগ্রাভ বিশ্ববিদ্যালয়, এভোরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন।

পর্তুগালে আবেদন করার পূর্বে আপনাকে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে। আগেই উল্লেখ করেছি পর্তুগাল ইউরোপের তুলনামূলক অনুন্নত দেশগুলির একটি। যদিও অফিসিয়াল নিয়ম হলো সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করা যাবে কিন্তু শিক্ষার্থীরা চাইলে ফুল টাইম কাজও করতে পারে কিছু শর্ত পূরণ করে।

বৈধ কাগজপত্র লাভের জন্য প্রতি দিনই প্রচুর অভিবাসীদের আগমন ঘটে পর্তুগালে । এখানে কাজ পাওয়া গেলেও বেতন অনেক কম, সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন ৬’শ ইউরো।

পর্তুগালের শিক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নতমানের এবং এর ডিগ্রী আন্তর্জাতিক ভাবে গ্রহণযোগ্য। এখানে টিউশন ফী ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। এখানে বছরে ১২’শ থেকে ৩ হাজার ইউরো। কম খরচে জীবন যাপনের জন্য ইউরোপের মধ্যে পর্তুগালই সেরা ।

পর্তুগিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর বা মাস্টার প্রোগ্রামে আইইএলটিএস ছাড়া এবং কোনরূপ ফাউন্ডেশন কোর্স ছাড়াই ভর্তি হওয়া যায় । তাছাড়া পর্তুগালে সহজে
নাগরিকত্ব পাওয়া যায় ।

পর্তুগালের ভিসার জন্য ভারতের নয়াদিল্লিতে পর্তুগিজ দূতাবাসে আবেদন করতে হবে। ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পর্তুগালে এসেছে।

পর্তুগিজ দূতাবাস আগের চেয়ে এখন বেশি সংখ্যক ভিসার অনুমতি দিচ্ছে।#