মে ১৮, ২০১৯
Home » খেলা » বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসের শিরোপা

বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসের শিরোপা

এইবেলা, স্পোর্টস ডেস্ক ১৮ মে ::

 বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি পেল বাংলাদেশ। ভাঙল মানসিক বাধার দেয়াল। বাংলাদেশের জন্য ফাইনাল মানেই এখন আর দুঃখগাথা নয়। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের সপ্তম ফাইনালে এসে অবশেষে দুঃখ ভোলানো জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ।

তাইতো সবার আগে মোসাদ্দেক হোসেনকে বুকে টেনে নেয়ার পর সৌম্য সরকারকে স্নেহের আলিঙ্গনে বাঁধলেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। এ দু’জনের দুর্বিনীত ব্যাটেই যে চিরকালের এক আক্ষেপ ঘুচিয়ে বহু আরাধ্য শিরোপার দেখা পেল বাংলাদেশ।

শুক্রবার ডাবলিনের মালাহাইডে ত্রিদেশীয় সিরিজের বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে মোসাদ্দেক ও সৌম্যর টর্নেডো ফিফটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করলেন মাশরাফিরা।

ফর্ম অনুকূলে থাকলেও অতীত ছিল প্রতিকূলে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এর আগে ছয়টি ফাইনালে খেলে প্রতিটিতেই হেরেছিল টাইগাররা। সপ্তম ফাইনালে এসে বদলে গেল ধূসর ছবিটা।

বৃষ্টির বাধায় ২৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য সাত বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। সৌম্যর ৪১ বলে ৬৬ রানের দুরন্ত ইনিংস গড়ে দিয়েছিল জয়ের ভিত।

সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংসে তুলির শেষ আঁচড় টানেন ম্যাচসেরা মোসাদ্দেক। ফাইনালে দলের বড় ভরসা সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি অনুভূতই হতে দেননি সৌম্য ও মোসাদ্দেক।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পর নেমেছিল বৃষ্টি। খেলা বন্ধ থাকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময়। পরে বৃষ্টি থামলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ২৪ ওভারে।

দুই ওপেনার শাই হোপ ও সুনীল আমব্রিসের ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত এক উইকেটে ১৫২ রান তোলে উইন্ডিজ। কিন্তু বৃষ্টি-আইনে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ২১০ রান।

প্রথম ওয়ানডে ট্রফি জিততে বাংলাদেশকে তাই করতে হতো টি ২০ ব্যাটিং। সময়ের দাবি মিটিয়ে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন সৌম্য সরকার। উদ্বোধনী জুটিতে ৫.৩ ওভারেই আসে ৫৯ রান।

১৩ বলে ১৮ রান করা তামিম ইকবালকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ওই ওভারেই গ্যাব্রিয়েলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন তিনে নামা সাব্বির রহমান। তবে জোড়া ধাক্কার পরও সৌম্যর চওড়া ব্যাটে সচল থাকে রানের চাকা।

মাত্র ২৭ বলে সিরিজে নিজের টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন সৌম্য। নয় চার ও তিন ছক্কায় ৪১ বলে ৬৬ রান করা সৌম্যকে শেষ পর্যন্ত থামান রেমন রেইফার। তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি ভাঙার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিকুর রহিমও।

২২ বলে ৩৬ রান করে আউট হন মুশফিক। মিঠুন থামেন ১৭ রানে। ১৪৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে পথ দেখান মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ।

ষষ্ঠ উইকেটে ৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে সাত বল বাকি থাকতেই দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেন তারা। মোসাদ্দেক ২৪ বলে ৫২ রান ও মাহমুদউল্লাহ ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ২০ বলে ফিফটি ছোঁয়া মোসাদ্দেকের ম্যাচ জেতানো ইনিংসে দুটি চারের সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি ছক্কা।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা উইন্ডিজ যখন ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১, তখনই বৃষ্টি খেলা থামিয়ে দেয়। হোপ ৬৮ ও আমব্রিস ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ফের খেলা শুরু হলে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হোপ আউট হন ৭৪ রানে।

ভাঙে উইন্ডিজের ১৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। অন্যপ্রান্তে আমব্রিস অপরাজিত থাকেন ৬৯ রানে। শেষ ২৩ বলে মাত্র ২১ রান যোগ করতে পারে ক্যারিবীয়রা।

চোটের কারণে কাল ট্রফির লড়াইয়ে দলের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই নেমেছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে পিঠের বাঁ পাশের পেশিতে হালকা চোট পাওয়ায় বিশ্বকাপের আগে সাকিবকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।

সাকিব অবশ্য ফাইনালে খেলার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। সেটাই স্বাভাবিক। একটি শিরোপার জন্য বহুদিনের অপেক্ষা ছিল বাংলাদেশের। এর আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনও শিরোপার দেখা পায়নি বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজ মিলিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আগের ছয়টি ফাইনালের প্রতিটিতেই হেরেছে টাইগাররা। আগের ছয় ফাইনালের তিনটিতে প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, দুটিতে শ্রীলংকা ও একটিতে পাকিস্তান।

উপমহাদেশের বাইরের কোনো দলের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম ফাইনাল। সেখানেই খুলল গেরো। লিগ পর্বে উইন্ডিজকে দু’বার যথাক্রমে আট ও পাঁচ উইকেটে হারানোয় ফাইনালে বাংলাদেশই ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। শেষ পর্যন্ত ফেভারিটের মতোই জিতল বাংলাদেশ।

উইন্ডিজ : ১৫২/১

বাংলাদেশ : ২১৩/৫

ফল : বৃষ্টি আইনে পাঁচ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ