মে ২৫, ২০১৯
Home » জাতীয় » কুলাউড়ার কাউকাপন বাজার মনুর করাল গ্রাসে পুরো বাজার বিলীন হওয়ার আশঙ্কা-

কুলাউড়ার কাউকাপন বাজার মনুর করাল গ্রাসে পুরো বাজার বিলীন হওয়ার আশঙ্কা-

এইবেলা, কুলাউড়া, ২৫ মে ::

কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের শতবর্ষীয় কাউকাপন বাজারে ২০১৮ সালে মনু নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ৩৬টি দোকান বিলীন হয়ে যায়। সেই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাউকাপন বাজার রক্ষায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণের একবছর অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি লাল ফিতায় বন্দি আছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় চলতি বন্যায় বাজারটির শতভাগ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশ্ঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কাউকাপন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পরিমল চন্দ্র দে, সেক্রেটারি মখলিছুর রহমান, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সাইফুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ১৫ জুন কাউকাপন বাজারের প্রায় ৫০ ফুট জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ৩৬টি দোকান সম্পুর্নরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিশেষ করে পীযুষ দেবনাথ, ছুটই মিয়া ও রফিক মিয়ার ৩টি বড় মার্কেট নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩টি মার্কেটে ১৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া হাবিবুল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, হাজী হাবিবুর রহমান, সুরণ রায়, হাজী আব্দুল খালিক, হাজী আব্দুল গফ্ফার, জয়নাল মিয়া, আব্দুস শহিদ মায়া, তোয়াব মিয়া ও হাজী আব্দুল খালিক কনা মিয়ার দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভাঙন শুরু হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। বেশির ভাগ মালামাল নদীর ¯্রােতে ভেসে যায়। ৩৬টি দোকানে ব্যবষায়ীদের মোট ক্ষয়ক্ষতির কোটি টাকার অধিক ছিলো।

ভাঙনের পর ২৪ জুন সরেজমিন কুলাউড়া থেকে নির্বাচিত তৎকালীন এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুস শহীদ ও মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র চক্রবর্তী কাউকাপন বাজারে মনু নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শণ করেন। সেইসময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় এমপি কাউকাপন বাজার রক্ষায় একটি আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রতি দেন এমপি ও পাউবোর কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে প্রায় একবছর সময় অতিবাহিত হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন উদ্যোগ নেই।

এদিকে বৃহস্পতিবার ২৩ মে থেকে ভারি বর্ষণের ফলে মনু নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি বিপদ সীমা অতিবাহিত করার আশঙ্কা রয়েছে। হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু জানান, প্রবল বর্ষণের কারণে দ্রুতগতিতে বাড়ছে মনু নদীর পানি। ২৪ মে শুক্রবার সকাল থেকে নদীতে প্রায় ৭ ফুট পানি বেড়েছে। নদীর পানি বিপদজনক রূপ নিতে পারে। হাজীপুর ইউনিয়নের মাদানগর থেকে নোয়াগাও পর্যন্ত নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে বন্যা ও নদী ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র চক্রবর্তী জানান, কাউকাপন বাজার রক্ষায় গৃহিত প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দ্রুত বাজার রক্ষায় কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।#