মে ২৯, ২০১৯
Home » জাতীয় » কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

এইবেলা, মৌলভীবাজার ২৯ মে ::

কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ২০১২ সালের ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিপিবির দশম কংগ্রেসে তিনি ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সিলেটের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কৃতি ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ অন্যতম। তিনি ১৯৫৪ সালের ১১ জুলাই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ মনোয়ার আলী এবং মা সৈয়দা আমিরুন্নেসা খাতুন।

শিক্ষা জীবনে সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ দর্শনে স্নাতকোত্তর করেন। পরে একই বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য তিনি ১৯৭৯ সালে জার্মানি যান।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন পেশাজীবি-সামাজিক-সাংস্কৃতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ছাত্র ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনীর একজন যোদ্ধা হিসেবে সম্মুখ সমরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সিলেটে চা শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৯৭২ সালে তিনি প্রথম কারাবরণ করেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার অব্যবহিত পরই আবার ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রতিবাদ করায় ফের তিনি গ্রেপ্তার হন এবং বিনাবিচারে দীর্ঘ ১ বছর কারাবন্দী থাকেন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই উত্তাল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সোচ্চার ভূমিকার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার-নির্যাতনের শিকার হন।

সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার আন্দোলনেও সমান সক্রিয় ছিলেন। ক্ষেতমজুর আন্দোলনে তার অগ্রণী ভূমিকার কারণে ক্ষেতমজুর সমিতির শুরুর দিকেই তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।

প্রগতিশীল রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনেও তার ছিল সমান বিচরণ। ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে মৌলভীবাজারের অধুনালুপ্ত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক মনুবার্তার সম্পাদক-প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণমানুষের মুক্তি ও চেতনাগত পরিবর্তনে তিনি সশরীরে রাজপথে যেমন সক্রিয়, তেমনই সক্রিয় তার কলম। বৃত্তবন্দি অপরাজনীতির ধারাভাষ্যসহ আর্থ-সামাজিক ইস্যুতে আমৃত্যু তার কলম সচল ছিল।

সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ২০১৬ সালের ২৮-৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র একাদশ কংগ্রেসে দ্বিতীয়বারের মত দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৭ সালের ২৬-২৮ মে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়। তিনি আমৃত্যু সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ২৮ মে ২০১৯ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।#