আগস্ট ১৩, ২০১৫
Home » মৌলভীবাজার » রাজনগরের মশরিয়া মাদরাসায় স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন নিয়ে শিবির-তালামীযের মধ্যে উত্তেজনা

রাজনগরের মশরিয়া মাদরাসায় স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন নিয়ে শিবির-তালামীযের মধ্যে উত্তেজনা

এইবেলা, রাজনগর, ১৩ আগস্ট:: মৌলভীবাজার জেলার রাজনগরে মশরিয়া এমদাদিয়া দাখিল মাদরাসায় ‘স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন’ নিয়ে ইসলামী ছাত্র শিবির ও ফুলতলী পীর সমর্থিত ছাত্র সংগঠন তালামীযের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে ‘আশিকানে ফুলতলী’র নামে একটি পক্ষ বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) মাদরাসার সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে শিক্ষা অফিসার এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৮ আগষ্ট) সকাল থেকে ২টা পর্যন্ত প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন-২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়। পাইলট প্রকল্প হিসেবে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদরাসায় এ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে ৮টি পদে ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচিত হন ৮জন। ভোট গণনা শেষে নির্বাচিতদের নাম নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়। কিন্তু নির্বাচনে বিজীত ছাত্রদের অভিভাবক ও কতিপয় ছাত্র নির্বাচনে কারচুপি ও ছাত্র শিবির সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের বিজয়ী করা হয়েছে দাবি করে মাদরাসা সুপারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং হাতে থাকা ফাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। পরে রেজান মিয়া ও ছোয়াব মিয়াসহ কয়েকজন অভিভাবক মাদরাসার গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাজনগর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলও স্থগিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নির্বাচনের পরদিন (রোববার-৯আগষ্ট) বিজয়ী ছাত্ররা মিছিল করে সিলেটের ফুলতলী পীরকে কটুক্তি করেছে দাবি করে ‘আশিকানে ফুলতলীর’ ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদরাসার সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমদ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান খয়রুল মজিদ, তালামীযের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাফিজ কাওছার আহমদ, উপজেলা আল ইসলাহের সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী সোহেল আহমদ, মেদেনিমহল মাদরাসার সুপার মাওলানা. রাহেল আহমদ, উপজেলা তালামীযের সভাপতি মো. গৌছুজ্জামান, সম্পাদক শাহেদ আহমদ প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা ফুলতলী পীরকে কটুক্তিকারী জামায়াত-শিবির কর্মীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মাদরাসা সুপার মাওলানা আব্দুল লতিফ জানান, ফলাফল স্থগিত করতে পূর্ব মুশরিয়া গ্রামের রেজা মিয়া আমার হাতে থাকা ফাইলপত্র ছুড়ে ফেলে দেয় এবং আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করেন। নির্বাচনে কোন ধরনের কারচুপি বা কাউকে এগিয়ে দেয়া হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। মাদরাসার সুপার আমাকে এব্যাপারে কিছুই জানান নি। #

রিপোর্ট-আব্দুর রহমান সোহেল