- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

বড়লেখায় স্বর্ণালংকার না দেয়ায় স্ত্রীর শরীরে আগুন

এইবেলা্, বড়লেখা, ১২ জুন ::

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় শ্বশুড় বাড়ির ঈদ উপহারে অসন্তুষ্ট হয়ে ও স্ত্রীর ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার না পেয়ে ঘরে থাকা কাপড়-চোপড়ে আগুন ধরিয়ে তাতে স্ত্রীকে ফেলে পুড়িয়ে দিয়েছে পাষন্ড স্বামী সাহেদ আহমদ।
ঈদের আগের রাতে মধ্যযোগীয় এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মুছেগুল গ্রামে। প্রায় ৮০ ভাগ পোড়া শরীর নিয়ে গত ৮ দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে দরিদ্র গৃহবধু আছমিনা বেগম। এঘটনায় তার বাবা ছমির উদ্দিন মঙ্গলবার বিকেলে গৃহবধুর স্বামী ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

এদিকে চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশি¬ষ্ট বিভাগ অগ্নিদগ্ধ আছমিনা বেগমকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এখন সে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার জফরপুর গ্রামের হত দরিদ্র ছমির উদ্দিন ৩ বছর পূর্বে মূছেগুল গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে সাহেদ আহমদের সাথে মেয়ে আছমিনা বেগমের বিয়ে দেন। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে শ্বশুড় বাড়ি থেকে উপহার পাঠানো হলে তাতে সন্তোষ্ট হয়নি জামাতা সাহেদ। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। ঈদের আগের রাতে সে স্ত্রীর ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নিতে চায়। কিন্তু আছমিনা বেগম তা বাবার বাড়িতে রয়েছে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে পাঠানো ঈদের নতুন কাপড়সহ ঘরে থাকা স্ত্রীর যাবতীয় কাপড়চোপড় জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আছমিনা বেগম বাধা দিলে তাকে কিল ঘুষি মেরে দাউ দাউ আগুনে ফেলে দেয়। এতে তার শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ অংশ পুড়ে গেলে মুমুর্ষ অবস্থায় বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে তাকে রেখে পাষন্ড সাহেদ পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আহত আছমিনার বাবা-মা ও বোন ঈদের দিন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ছমির উদ্দিন অভিযোগ করেন মাত্র ৫ দিন চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়েকে রিলিজ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সে এখন বাড়িতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বড়লেখা পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী জানান, চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই অগ্নিদগ্ধ দরিদ্র মহিলাকে রিলিজ দেয়ায় জানান, ওসমানীতে যদি এধরণের রোগির চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকে, তবে যেখানে রয়েছে সেখানে দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ ছিল। কিন্ত তা না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দরিদ্র বাবা-মায়ের পক্ষে তার চিকিৎসা দেয়া মোটেও সম্ভব নয়।

থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এঘটনায় থানায় অগ্নিদগ্ধ আছমিনার স্বামী ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *