- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয়, স্লাইডার

বড়লেখায় শহীদ মিনার ভেঙ্গে টয়লেটের ট্যাংকি ! এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ

আব্দুর রব, বড়লেখা, ১৬ জুন ::

বড়লেখার দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সিঁড়ি ভেঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে নির্মিতব্য একটি একাডেমিক ভবনের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক! ভাষা সৈনিকদের স্মৃতিস্তম্ভের একাংশ ভেঙ্গে এভাবে শৌচাগারের ট্যাংকি নির্মাণে এলাকায় চলছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। অবিলম্বে এ সেপটিক ট্যাংক অপসারণ করা না হলে যেকোন সময় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিষ্ফোরণে পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

সরিজমিনে জানা গেছে, দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে কোন শহীদ মিনার না থাকায় স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাঠের উত্তর দিকে ভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ভাষা সৈনিক ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে এ শহীদ মিনারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় দিবসে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ স্কুলের ৪তলা ভিতের ১তলা বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশের কয়েকটি সিঁড়ি ভেঙ্গে এ ভবনের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করেছেন। রমজান মাসের ছুটি চলাকালিন শৌচাগারের ট্যাংকি নির্মাণ করায় বিষয়টি স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর নজরে আসেনি। শনিবার স্কুল খোলার পর শহীদ মিনার ভেঙ্গে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের ঘটনা নজরে আসলে বিভিন্ন মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করতে থাকে।

এলাকাবাসী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হাজী মুছব্বির আলী, উপজেলা আ’লীগের প্রচার সম্পাদক নজব আলী, মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিন, দাসেরবাজার বণিক সমিতির সভাপতি বাহার উদ্দিন, শিক্ষানুরাগী লোকমান আহমদ, ফয়সল আহমদ প্রমুখ জানান, শহীদ মিনারের একাংশ ভেঙ্গে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করা ভাষা সৈনিকদের প্রতি চরম অবমাননা। যা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। নতুন একাডেমিক ভবনের পেছনে পর্যাপ্ত স্থান থাকা স্বত্বেও কার ইঙ্গিতে এধরনের গর্হিত কাজ করা হল তার বিচার হওয়া উচিত। অবিলম্বে এ সেপটিক ট্যাংক অপসারণ ও শহীদ মিনার মেরামত না করলে দায়ীরা গণবিষ্ফোরণের মুখোমুখি হতে হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, স্কুল কমিটির সভাপতি স্বপন চক্রবর্তী ঠিকাদারকে স্থান নির্ধারণ করে দেয়ায়ই এখানে ট্যাংকি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সবাই চাইলে তিনি দায়িত্ব নিয়ে শহীদ মিনারের নিকট থেকে সেপটিক ট্যাংক সরিয়ে দিবেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস জানান, ঠিকাদারের লোকজন শহীদ মিনার স্পর্শ না করেই সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে পারবে বলেছিল। পরে দেখা যায় তারা সিঁড়ি ভেঙ্গে ফেলেছে। তবে মেরামত করে দিতে রাজি হয়েছে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে এ স্থান থেকে শহীদ মিনারটি স্কুলের প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *