জুন ১৬, ২০১৯
Home » জাতীয় » বড়লেখায় স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ আছমিনা ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে সুস্থ হচ্ছেন

বড়লেখায় স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ আছমিনা ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে সুস্থ হচ্ছেন

এইবেলা, বড়লেখা, ১৬ জুন ::

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ আছমিনা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চতুর্থ তলায় চিকিৎসাধীন। বার্ন ইউনিটের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক। তিনি শুক্রবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় আছমিনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে ঢাকায় যান। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মারিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। ওসি মো. ইয়াছিনুল হক রোববার বিকেলে জানান, তিনি আছমিনাকে দেখে এসেছেন। চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছেন। এখন সে আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ। তার সাথে কথাও হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার (১১ জুন) আছমিনার শারীরিক অবস্থা দেখে তার উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেন বড়লেখা থানার ওসি ইয়াছিনুল হক। স্থানীয় জনপ্রিতনিধিদের সহযোগিতায় পরদিন রাত ১০টায় ইয়াছিনুল হক আছমিনাকে এম্বুলেন্স করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বড়লেখা থানার ওসির ফেসবুক পেজে আছমিনাকে এম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানোর একটি ছবি শেয়ার করা হলে সে ছবি দেখে অনেকে ওসির এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। অনেকে বিষয়টিকে মানবতার অনন্যা দৃষ্টান্ত বলেও ওসির প্রসংশা করছেন।

আছমিনার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামের হতদরিদ্র ছমির উদ্দিন ৩ বছর পূর্বে মূছেগুল গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে সাহেদ আহমদের সাথে মেয়ে আছমিনা বেগমের বিয়ে দেন। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই স্বামীর মারধরের শিকার হতেন আছমিনা। সংসার ধরে রাখার চেষ্টায় মুখ বুঝে সব সহ্য করতেন। কিন্তু বন্ধ হয়নি নির্যাতন। ঘটনার কয়েকদিন আগে আছমিনার কানের স্বর্ণের অলংকার বিক্রি করার চেষ্টা করে স্বামী সাহেদ। বিষয়টি বুঝতে পেরে আছমিনা স্বর্ণগুলো বাবার বাড়িতে রেখে আসেন। ঘটনার ভোররাতে আছমিনার কাছে স্বর্ণের অলংকার চান সাহেদ। তখন আছমিনা বাবার বাড়িতে রেখে আসার কথা জানালে সাহেদ ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা আছমিনার সব কাপড় চোপড় জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আছমিনা বাধা দিতে গেলে শারীরিকভাবে আঘাত করে আগুনের মধ্যে চেপে ধরে রাখে। এতে আছমিনা বেগমের শরীরের বেশিরভাগ অংশই ঝলসে যায়।

এরপর মুমুর্ষ আছমিনাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পাষন্ড স্বামী সাহেদ আহমদ পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আছমিনার বাবা-মা ও বোন বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মুমূর্ষ আছমিনাকে দেখতে পান। এ সময় চিকিৎসকরা আছমিনাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওইদিন মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে আছমিনাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আছমিনা বেগমকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শরীরের প্রায় বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন। দরিদ্র পিতার পক্ষে আছমিনার উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না। এই অবস্থায় কেউই পাশে দাঁড়ায়নি আছমিনার।

বর্বর এই ঘটনাটির খবর পেয়ে আছমিনার বাড়িতে যায় পুলিশ। আছমিনার শারীরিক অবস্থা দেখে তার পাশে দাঁড়ান বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিনুল হক। এরপর তিনি তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।#