- খেলা, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

সাফ ফুটবল: প্রথম শিরোপা স্বপ্নে ছাড় দিতে নারাজ বাংলাদেশ

এইবেলা স্পোর্টস ডেস্ক, ১৬ আগস্ট:: সাফ অনুর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে চায়ের রাজধানী সিলেটে। এর আগের দুটি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল হিমালয় কন্যা নেপালে। সেই দুই আসর থেকেই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০১১ সালে প্রথম আসরে ছয় দলের মধ্যে চতুর্থ আর ২০১৩ সালে দ্বিতীয় আসরে সাত দলের মধ্যে তৃতীয়, এই ছিল বাংলাদেশের সাফল্য। তবে এবার পরিস্থিতি-প্রেক্ষাপট সবকিছুই ভিন্ন। টুর্নামেন্ট হচ্ছে বাংলাদেশে, পরিবেশ, দর্শক সব নিজেদের। সৈয়দ গোলাম জিলানীর শিষ্যরাও এবার আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছে।

মুখের কথায় নয়, মাঠের খেলা দিয়েই আগামীর ফুটবল তারকারা সব আকর্ষণ টেনে নিয়েছেন নিজেদের দিকে। তবে সাফল্যযাত্রায় থেমে যেতে রাজি নয় শাওন-সাদ উদ্দিনরা। সাফ অনুর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের প্রথম শিরোপা স্বপ্নে প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয় বাংলাদেশ। ‘গুড়িয়ে দেয়া’র মানসিকতা নিয়েই সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। এদিকে সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নামার আগে শনিবার বিকেলে ম্যাচ প্রিভিউয়ে ফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যের কথাই জানিয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান ও নেপাল।

লক্ষ্যহীনভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করে বাংলাদেশ এখন শিরোপাস্বপ্নে বিভোর। আলোচিত হচ্ছে এই বিষয়টাই। তবে এটাকে ‘আচমকা সাফল্য’ বলছেন না বাংলাদেশ কোচ জিলানী। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থেকেই বাংলাদেশ কিশোররা এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে বলে তার মত। কোচ বলছেন, দেশের ৬১টি জেলা নিয়ে আয়োজিত সেইলর অনুর্ধ্ব-১৬ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপই এখনকার বাংলাদেশের সাফল্যের রহস্য বলে মানছেন কোচ।

ওই চ্যাম্পিয়নশিপে সারাদেশ থেকে ২০০ ফুটবলার বাছাই করা হয়েছিল। পরে বাফুফের কোচদের তত্ত্বাবধানে ট্রায়াল থেকে প্রথমে ৬০ জন, দ্বিতীয় দফায় ৪০ জন এবং সর্বশেষ ৩২ জন কিশোর ফুটবলার বাছাই করা হয়। তাদেরকে নিবিড় প্রশিক্ষণের জন্য রাখা সিলেটস্থ বাফুফে ফুটবল একাডেমিতে। চলমান সাফ অনুর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের মূল স্কোয়াড এই ফুটবলারদের মধ্য থেকেই রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের খেলার ধরনও আছে আলোচনায়। ছোট ছোট পাসে, মাঝমাঠে খেলা তৈরী করে আচমকা আক্রমণে প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা আবার নিজেদের ডিফেন্সকে সুরক্ষিত রাখা- এমন কারুকার্যময় ফুটবলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। কোচ জিলানী বলছেন, এই টুর্নামেন্টের গত দুই আসরে বাংলাদেশের ব্যর্থতার পেছনে কি কারণ ছিল, তা পূর্বসূরীদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছেন তিনি। এরপর সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে বিশেষভাবে সিলেটের দর্শকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন জিলানী, ‘খেলার প্রাণ হচ্ছে দর্শক। সিলেটের দর্শকরা যেভাবে সমর্থন জানাচ্ছেন, তাতে ছেলেরা অনেক বেশি উজ্জীবিত, অনুপ্রাণিত। যার প্রভাব তাদের খেলায় পড়ছে।’

সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ আফগানদের নিয়ে কোচের মূল্যায়ন হচ্ছে, ‘তারা বেশ ভালো দল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাদের জাতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এতেই তাদের ফুটবল শিকড় যে বেশ শক্ত,তা বুঝা যায়। আমাদেরকে সেরাটা খেলতে হবে।’ বৃষ্টি নিযে কোচকে দুশ্চিন্তিত মনে হলো, ‘ম্যাচে বৃষ্টি ফ্যাক্টর হয়ে ওঠতে পারে। মাঠ কর্দমাক্ত থাকলে একটু সমস্যা হবে।’ বৃষ্টির কারণে ফরমেশন নিয়েও কোচ নির্দিষ্ট কিছু চিন্তা করেননি। বৃষ্টি হলে এক, না হলে আরেক কৌশলে খেলার ছক কষছেন কোচ জিলানী।

এদিকে শনিবার বিকেলে ম্যাচ প্রিভিউয়ে এসে জয়ের কথা বলে গেছেন আফগান কোচ ঈসা জাহিদ। সেমিফাইনালের জন্য তার দল পুরো প্রস্তুত এবং মানসিকভাবে উজ্জীবিত রয়েছে বলেও জানালেন তিনি। ফাইনালে যাওয়ার কথা বলেছেন ভারতের সহকারি কোচ বিবিয়ানা ফার্নান্দোজ এবং নেপালের কোচ উপেন্দ্র মান সিং। ফাইনারে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকেই দেখছেন বলেও জানিয়ে গেলেন ফার্নান্দোজ! অন্যদিকে নেপাল কোচ বলছেন, আজকের সেমিফাইনাল তাদের জন্য ‘রিভেঞ্জ’! এই টুর্নামেন্টের গত আসরে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে হারার জ্বালা যে এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে নেপাল, তা স্পষ্ট নেপালের কোচের কন্ঠে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *