- অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়ায় লুহাইনি চা বাগানে ১৩ দফা দাবিতে শ্রমিক ধর্মঘট

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৬ জুলাই ::

কুলাউড়া উপজেলার লুহাইনি চা বাগানের চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ধরণের সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ০৬জুলাই শনিবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেন বাগানের চা শ্রমিকরা। দাবি দাওয়া বাস্তবায়ন না হওয়া পয়ন্ত ধর্মঘট চলবে। বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, কিছু স্বার্থান্বেষীমহল পরিবেশ অশান্ত করে নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।

শ্রমিকনেতারা জানান, তাদের দাবিগুলো হলো- জোরপূর্বক চা শ্রমিকদের জায়গা-জমি কেড়ে নেয়া যাবে না। দীর্ঘদিন থেকে কাজ করা অস্থায়ী চা-শ্রমিকদের অবিলম্বে স্থায়ী করতে হবে। চা-শ্রমিকদের ঘরবাড়ি মেরামতে উদ্যোগ নিতে হবে। মন্দির-মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় লোক নিয়োগ করতে হবে। শ্মশানঘাটের জায়গা দখল করা যাবে না। গো-চারণের জন্য নির্ধারিত দখলকৃত জায়গা ফিরিয়ে দিতে হবে। স্থানীয় ঠিকা শ্রমিকদের জন্যও রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। চা-শ্রমিকদেরকে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে। প্রত্যেক চা শ্রমিক পরিবারে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে। স্প্রেয়িং সেকশনে কর্মরত সকল শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদান করতে হবে। নারী চা-শ্রমিকদের দিয়ে চা কারখানায় কাজ করানো যাবে না। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। চা-বাগানের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছনতায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা মোহন রবিদাস জানান, এই চা-বাগানের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। এখানে শ্রমিকদের দাবি পূরণে মালিকপক্ষ কোন উদ্যোগ হাতে না নেয়ায় চা- শ্রমিকরা আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ছাত্রনেতা বাবুল গোয়ালা জানান, আমাদের চা বাগানের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সকল চা বাগানের চা-শ্রমিক ও ছাত্রযুবকদের আহ্বান জানাচ্ছি।

চা-শ্রমিক নেতা বিশ্বজিৎ কৈরী জানান, আজ আমরা আমাদের ১৩ দফা দাবি নিয়ে বাগান মালিকদের কাছে বার বার গিয়ে কোন সুরাহা তো হয়নি, উপরন্তু আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে ।

লুহাইউনি চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবি ভূমিজ জানান, আমাদের ১৩ দফা দাবি নিয়ে ০৫ জুলাই শুক্রবার দুর্গামন্ডপে একটি মিটিং আয়োজন করার কারণে শনিবার আমাদের দু’জনের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তার প্রতিবাদে আমরা শনিবার থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেছি।

এব্যাপারে লুহাইউনি চা বাগানের জিএম মাহমুদ আলী জানান, কিছু অবৈধ সুবিধাভোগি তাদের স্বার্থে ঘা লেগেছে, তাই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আগের বাগান আর এখনকার বাগান অনেক পার্থক্য। দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে বাগানে- দেশের আর কোথায়ও আছে এমন নজির? বাগান যখন শান্তিতে চলছিলো, তখন এই অশান্তির পায়তারা। শ্রমিকরা যদি বুঝতে পারে তাহলে আশাকরি আন্দোলন বেশি দুর এগুবে না।

এদিকে ধর্মঘটরত শ্রমিকরা জানিয়েছে, আন্দোলনের খবর পেয়ে কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শফি আহমদ সলমান ও স্থানীয় ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমদুদ হোসেন সরেজমিন বাগানে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা করলে শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *