জুলাই ১২, ২০১৯
Home » জাতীয় » ফলোআপ-প্রেমিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না প্রেমিক নওমুসলিম আব্দুল আজিজ

ফলোআপ-প্রেমিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না প্রেমিক নওমুসলিম আব্দুল আজিজ

কুলাউড়ার স্কুলছাত্রী তাসলিমার রহস্যময় মৃত্যু-

এইবেলা, কুলাউড়া, ১২ জুলাই ::

মনে করেছিলাম আমার মনের মানুষ পেয়ে গেছি। পরিবার পরিজন এমনকি ধর্মও ত্যাগ করলাম তাসলিমার জন্য। সেই তাসলিমা এভাবে আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না। সকালে যখন গ্রামপুলিশ কয়ছর মিয়া বাসার দরজা খুলতে বলে, তখন দরজা খুলে তাসলিমা বলেছিলো- আমরা বিয়ে করতে চাই। সেই তাসলিমা হার্ট অ্যাটাক করতে পারে না। ওরা তাসলিমা মেরে ফেলেছে- বলেই কান্না সংবরণ করার চেষ্টা করেন নওমুসলিম আব্দুল আজিজ।

আব্দুল আজিজ জানান, তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রী। কাজের সুবাদে তাসলিমাদের বাড়িতে যাতায়াত এবং ঘনিষ্টতা। সেই সুবাদে গত ২ বছর থেকে তাসলিমার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। সেই সাথে আব্দুল আজিজের সাথে ক্রমে তাসলিমাদের পরিবারের সদস্যদেরও সখ্যতা গড়ে উঠে। তাসলিমার প্রেমে আসক্ত আব্দুল আজিজ ৬ মাস আগে অর্থাৎ গত মাঘ মাসে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হন। মুসলিম হওয়ার সবচেয়ে বেশি অবদান তাসলিমার চাচা সবুজের। তিনি তাকে মুসলমান হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি আরও জানান, তাসলিমার মা মারা যাওয়ার আগে ৪দিন উনার সাথে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে সার্বক্ষণিক ছিলেন। তাসলিমার বাবা জহুর উদ্দিন স্ত্রীর মৃত্যুর পর দেশে ফিরে হৃদরোগে আক্তান্ত হলে আব্দুল আজিজ তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা ব্যয়ভারও বহন করেন। তার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছে তাসলিমার পরিবার। তাসলিমার সাথে আব্দুল আজিজের সম্পর্কের বিষয়টি জেনে জহুর উদ্দিন দু’জনকে মারপিটও করেন। এরপর থেকে উভয়ের দেখা স্বাক্ষাৎ কমে যাওয়ায় ঘটনার দিন অর্থাৎ ০৪ জুলাই বৃহস্পতিবার তাসলিমা কালামিয়ার বাজারে যান আব্দুল আজিজের সাথে দেখা করতে।

এদিকে তাসলিমার মৃত্যুর পর হতাশ আব্দুল আজিজ জানান, আমি হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছি তাসলিমার জন্য। তাসলিমার পরিবার বলতে বাবা খুবই উগ্র। এতে তিনি খুব আতঙ্কে আছেন। তবে তসলিমার বড়বোন ফাতেমা বেগম ও ভাই হাবিবুর রহমান রাহাতকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

এখন তাসলিমাও নেই কি করবেন? এই প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আজিজ বলেন, আল্লাহর উপর তার বিশ^াস অটুট। তিনি মুসলমানই থাকবেন। বাকি জীবন মুসলমান হিসেবেই কাটাতে চান। তবে যেখানে তাসলিমা নেই অর্থাৎ বরমচাল ছেড়ে দুরে কোথায়ও চলে যাবেন।

আব্দুল আজিজের ব্যাপারে তাসলিমার বাবা জহুর উদ্দিন জানান, আব্দুল আজিজ তাদের বাড়িতে কাজ করতো বলে তিনি তাকে চেনেন। তবে ০৪ জুলাই কালামিয়ার বাজারে কি ঘটেছে?-তা তিনি জানেন না। তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত ০৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী কুলসুমা বেগম তাসলিমা (১৭) কালামিয়ার বাজারের পাশে প্রেমিক নওমুসলিম আব্দুল আজিজের সাথে দেখা করতে আসেন। এসময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজন মিলে তাদের আটকে রাখে। পরে পরিবারের লোকজনের কথামত গ্রাম পুলিশ কয়ছর মিয়া তাসলিমাকে বাড়ি পৌছে দেন। কিন্তু বিকেলে রহস্যময় হার্টস্ট্রোকে মারা যান তাসলিমা।

সংবাদটি প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়। কুলাউড়া থানা পুলিশও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্ত কাজ শুরু করেছে বলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান।#