- অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

রাজনগরের উত্তরভাগ চা বাগানে কর্মবিরতি নিয়ে দু’পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আহত ৭

এইবেলা, রাজনগর, ১৯ জুলাই :::

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ চা-বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি নিয়ে শ্রক্রবার ১৯ জুলাই দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষে ৭জন শ্রমিক আহত হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উত্তরভাগ চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, বাগানের চৌকিদার অমৃতলাল পাশীর সাথে দুইমাস আগে ফ্যাক্টরী ম্যানেজার সাইদুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে অমৃতলাল পাশী ম্যানেজারকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। পরে বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা মামলা না করতে অনুরোধ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিবেন বলে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ চৌকিদার অমৃতলাল পাশীকে কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাগান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে নোটিশ দেয়। ১৩ মে অমৃতলালের বিরুদ্ধে রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়া বাগানের মন্দির নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা ২ কেজি করে চা পাতা বেশি তুলে দিবে বলে মালিক পক্ষের সাথে কথা ছিল। সেই অনুযায়ী শ্রমিকরা নিয়মিত ২ কেজি পাতা বেশি তুললেও মান্দিরের কাজ শুরু করছে না কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে রশিদ মিয়া, মনির মিয়া, আমজদ আলী নামক শ্রমিককে মাঠে কাজ করতে না দিয়ে অফিসে রাখা হয়েছে। তাদেরকে ওভারটাইমের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় স্বাক্ষী করে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
এসব ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতির পক্ষের শ্রমিকরা। তারা বাগানের অব্যাহতি পাওয়া শ্রমিক অমৃতলাল পাশীর পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে কাজ দেয়া, মন্দিরের কাজ দ্রুত শেষ করা, বাগান শ্রমিকদের লেখাপড়া জানা সন্তানদের চাকরি দেয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে শুক্রবার ১৯ জুলাই সকাল ৯টা থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে।
বেলা ১১টার দিকে বাগান ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন শ্রমিকদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলেন। পঞ্চায়েত সভাপতির পক্ষের শ্রমিকরা সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। এসময় উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় পক্ষের লোকজন বল্লম, রামদা, তীরধনুক ও লাঠিসোটা হাতে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দু’পক্ষের রিতা কর্মকার (৪৫), সুনীল কর্মকার (৪০), রুনা নাইডু (৩৫), লক্ষীলাল পাশী (৩৫), রুসনা বেগম (৪০), হেমন্তী দাস (৪০), কুসুম বাগতি (৪০) ও শ্রীমতি বাগতি (৪০) নামক ৭ শ্রমিক আহত হয়। আহতদের রাজনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি দুলাল বাগতি জানান, বাগানের সাধারণ শ্রমিকরা কোনো ন্যায্য দাবী তুললেই কর্তৃপক্ষের সুবিধাভোগী একটি পক্ষ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। এছাড়া শ্রমিকদের কথা না ভেবে তারা মালিকদের পক্ষ নেয়। এছাড়া আমাকেসহ বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতা ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই মামলায় ওই সুবিধাভোগী শ্রমিকদেরকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। ম্যানেজার সাহেব দাবী মেনে নেয়ায় আমরা কাজে যোগ দিতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা করে।
শ্রমিকদের অপরপক্ষের বিমল গড়াইত জানান, আমরাও চাই অমৃতলাল পাশীর বিষয়টির সুন্দর সমাধান হোক। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে ম্যানেজারের কাছে তারা মিথ্যা নালিশ করেছে। আমরা ম্যানেজার সাহেবের কাছে আমাদের বক্তব্য বলতে যাওয়ার সময় তারা আমাদের উপর হামলা করে।
এব্যাপারে বাগান ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন জানান, নো কমেন্টস। আমি এই বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।
রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসিম জানান, উত্তরভাগ চা-বাগানে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের দু’পক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছে। মারামারির ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *