- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়ার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারি শিক্ষিকার যত অভিযোগ

এইবেলা, কুলাউড়া, ২৩ জুলাই ::

কুলাউড়া উপজেলার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদের বিরুদ্ধে স্কুলের এক সহকারি শিক্ষিকাকে যৌন নিপীড়নসহ হুয়রানি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে ওই শিক্ষিকা কুলাউড়ার ইউএনও এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এনটিআরসির মাধ্যমে উপজেলার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ পান সহকারি শিক্ষিকা। যোগদানের পর শিক্ষিকার এমপিভুক্তির জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ কাগজাদি ও ফাইল রেডি করে যত টাকা খরচ লাগবে তিনি সেই টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি দেন। বিনিময়ে ওই শিক্ষিকাকে তার দেয়া নানা ধরণের যৌন হুয়রানিমুলক আচরণ ও বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হতে হবে। এই প্রণোদনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষক তার রুমে ডেকে নিয়ে শিক্ষিকাকে কুরুচিপূর্ণ, অনৈতিক প্রস্তাবনা দিয়ে যৌন হুয়রানি করে আসছেন। প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষিকাকে তার বাড়িতে যাওয়ার জন্যও প্রস্তাব দেন।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে বিভিন্ন সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্কুলের দপ্তরির মাধ্যমে ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার প্রস্তাবনা দেন, কিন্তু শিক্ষিকা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এরপর শিক্ষিকাসহ আরও দু’জন শিক্ষিকাকে এমপিও করানোর কথা বলে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

এ বিষয়টি স্থানীয় এলাকায় চাউর হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধমে সমালোচনার ঝড় উঠে। প্রধান শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে ওই শিক্ষিকা কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শিক্ষিকা জানান, আমি বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ আমার সাথে খারাপ আচরণ করে আসছেন। অনেকদিন সহ্য করেছি। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ করেছি। এ ঘটনার সঠিক সমাধান না হলে আমি স্কুলে যাবো না। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

শিক্ষিকার বাবা জানান, প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন আচরণে আমার মেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছে। সপ্তাহ খানেক থেকে সে স্কুলে যাচ্ছে না। একদিন এমপিও করার স্বাক্ষরের জন্য মৌলভীবাজার শিক্ষা অফিসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বাড়ি আসতে দেরি দেখে আমি নিজে মৌলভীবাজার গিয়ে রাত ১১টায় আমার মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আমার মেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

এ বিষয়ে তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ জানান, সব ভোগাছ। কোন অভিযোগ সঠিক নয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার জানান, ওই প্রধান শিক্ষক খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগেও ছিলো। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সখভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অভিযোগটি থানায় পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *