- নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

ডেঙ্গু নিয়ে অজানা কিছু কথা

[প্রথমবার ডেঙ্গু আক্রমনের চেয়ে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রমনের পরিনতি ভয়াবহ ]

ডা. মো. সাঈদ এনাম, এইবেলা, ২৪ জুলাই ::

ডেঙ্গু জ্বর মশা বাহিত ভাইরাস জনিত একটি রোগ। ডেঙ্গু জ্বর দুই রকমের হয়ে থাকে। ডেঙ্গু ফিভার (DF) এবং ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (DHF)।

ডেঙ্গু ভাইরাস সিংগেল স্ট্রেন্ড আর. এন. এ (RNA) ভাইরাস এবং এটি চার রকমের হয়ে থাকে, ডেংগু ভাইরাস ১- থেকে ডেংগু ভাইরাস -৪ (DENV 1-4)। এর মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাস -৩ বেশী বিপদজনক কারন এর আক্রমণে হেমোরেজিক ফিভার সম্ভাবনা বেশী হয়।

প্রথমবার ডেঙ্গু আক্রান্তের লক্ষন গুলো মোটামুটি টিপিক্যাল হয়ে থাকে। অস্বাভাবিক মাত্রার জ্বর, গা ব্যাথা, পেট ব্যাথা, বমি, লুজ মোশন, দূর্বলতা। ইমিউনিটি তৈরির ফলে প্রথম যে ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন ২য় বার তিনি আর ঐ একই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবেন না। কিন্তু যদি সেই একই রোগি দ্বিতীয়বার অন্য টাইপের ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন, তখন তার ডেংগু জ্বরের ক্লিনিক্যাল প্রেসেন্টেশনটা পুরোপুরি টিপিক্যাল
নাও হতে পারে। সেটা অবশ্য বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, দ্বিতীয়বার ভিন্ন টাইপের ডেঙ্গু ভাইরাসের আক্রমনে ‘ ডেঙ্গু  ফিভার’ (DF) এর চেয়ে ভয়ানক বিপদজনক ‘ডেংগু হেমোরেজিক ফিভার’ (DHF) হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে। এবং এতে ইন্টারনাল ব্লিডিং হয়, রোগীর প্লাজমা লিকেজ
বা রক্তরস বের হয়ে হাইপোভলিউমিয়া হয়। হাইপোভলিউমিয়ার জন্যে রুগীর ব্লাড প্রেশার নেমে যায়, রুগী শকে চলে যায়। একে হাইপোভলিউমিক শক বলে। রোগী মারা যেতে পারে যে কোন প্রকার এলার্মিং ছাড়াই।

ডেঙ্গুতে প্লাজমা লিকেজ বা রক্তরস বের হয় রক্তনালির গায়ে মাইক্রোলিকেজ সৃষ্টি হওয়াতে। ডেংগু ভাইরাসের আক্রমণে দেহেত আক্রান্ত কোষ গুলো থেকে নির্গত হয় নানান রকমের ইনফ্ল্যামেটরি মেডিয়েটর। যেমন টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর -আলফা (TNF-a), ইন্টারলিউকেন ৬-৮ (IL-6, IL-8) , গামা-ইন্টারফেরন (ঈণফ-g), অক্সিজেন রেডিকেল, ইলাসটেজ, ডেংগু ভাইরাল নন স্ট্রাকচারাল এন্টিজেন -১ (DENV NS-1)।

এই ইনফ্লামেটরি মেডিয়েটর গুলো রক্তনালির অন্তগাত্রে গ্লাইকোক্যালিক্স লেয়ারের ক্ষতি সাধন করে, মাইক্রোলিকেজ তৈরি করে যার মাধ্যমে রক্তের
রক্তরস (প্লাজমা) বের হয়ে যায়।

ডেঙ্গু জ্বরে কেবল প্যারাসিটামল ঔষধ খেতে হয়। আর ডেংগু হেমোরেজিক ফিভার সন্দেহ হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। কারন শরীর থেকে মাইক্রোলিকেজের মাধ্যমে ব্লাড বেরিয়ে যাবার কারনে রুগী কে স্যালাইন বা রক্ত দেবার প্রয়োজন পড়ে।

ডেঙ্গু ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হয়েছে। তবে সেটা যারা একবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে কেবল তাদের কেই দেয়া যেতে পারে। যার অতীতে ডেঙ্গু হয়নি , তিনি টিকা নিলে ভালোর চেয়ে মন্দ হবে বেশি। ডেঙ্গু ভাইরাসের টিকা শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেনা।

ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু বা মরটালিটি রেইট শতকরা এক ভাগের ও কম। তাই আতংক নয়, বরং এর একমাত্র বাহক মশা মুক্ত থাকা, চারপাশ মশা মুক্ত রাখা, সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই প্রধান কর্তব্য।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *