- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কমলগঞ্জে কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, কমলগঞ্জ, ৩১ জুলাই ::

আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, এবার সারা উপজেলা থেকে ১৭৮ মে:টন ধান কেনার টার্গেট দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে আদমপুর ইউনিয়ন থেকে ১৮ মে:টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গত ১০ জুলাই তাকে (চেয়ারম্যানকে) পত্র দিয়ে কৃষকের তালিকা দিয়ে ধান জমার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি প্রকৃত কৃষকের তালিকা করে মোট ১৮ জনের নাম উপজেলা কৃষি অফিসে পাঠিয়েছিলেন ১৮ জুলাই। ধান ক্রয়ের সর্বশেষ তারিখ ছিল ৩১ আগষ্ট। তালিকাভুক্ত কৃষকরা ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই ধান নিয়ে ভানুগাছ খাদ্য গুদামে গেলে ১৮ জনের মাঝ থেকে ১০ জনের ধান গ্রহন করে বাকি ৮জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন আরও বলেন, একটি সিন্ডিকেট করে কৃষি বিভাগ ও খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ তার ইউনিয়ন থেকে ৮ মে:টন ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন ও আগামী সমন্বয় সভায়ও উপস্থাপন করবেন বলে জানান।

ভানুগাছ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবিতা রানী দেব বলেন, আদমপুরের তালিকাভুক্ত কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করছিল। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে কৃষকরা আগে আসবে তাদের ধান গ্রহন করা হবে। সে হিসেবে আদমপুরের পিছিয়ে পড়া ৮ জন কৃষকের স্থলে তালিকাভুক্ত আরও ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ৮ মে:টন ধান কেনা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি। সময়সীমা ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত থাকলেও কেন তড়িঘড়ি করে আদমপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ৮ জন কৃষকের ধান গ্রহন না করে নতুন করে চেয়ারম্যানের তালিকার বাইরের ৮জনের কাছ থেকে ধান কেনা হল ? এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেনি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ধান ক্রয়ে কোন অনিয়ম হয়নি। তিনি দায়সারাভাবে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ধান গ্রহণের শেষ মেয়াদ ছিল ৩১ জুলাই। আদমপুরের কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করছে দেখে বাদ পড়া ৮ জনের স্থলে নতুন করে ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে। কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই পরপর ৩ দিন খাদ্য গুদামে গেলে কেনো তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হলো প্রশ্ন করা হলে কৃষি কর্মকর্তা সঠিক জবাব দিতে পারেননি।

কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে তিনি কথা বলবেন বলেও জানান।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *