- কৃষি, জুড়ী, ব্রেকিং নিউজ, স্থানীয়, স্লাইডার

জুড়ীতে ধানক্রয়ে কৃষক হয়রানী ও উৎকোচ আদায় অভিযোগের তদন্ত

আব্দুর রব, বিশেষ প্রতিনিধি, ০৪ আগস্ট ::

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ধান বিক্রি করতে আসা নিরীহ কৃষকদের খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কিয়াম উদ্দিন কর্তৃক হয়রানী ও লেবার খরচের নামে উৎকোচ আদায় অভিযোগের তদন্ত রোববার দুপুরে অনুষ্টিত হয়।

জানা গেছে, টন প্রতি ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা দুরদুরান্ত থেকে নিয়ে আসা কৃষকের ধান নানা অজুহাতে খাদ্যগুদামের সামনে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখেন। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভিজে অনেকের ধান নষ্ট হয়েছে। দিনের পর দিন ধর্না দিয়েও কৃষক ধান বিক্রি করতে না পরলেও সিন্ডিকেটের পাঠানো ধান দ্রুত গ্রহণ করতে দেখে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করতে থাকে। ধান গ্রহণে অনিয়মের এ অভিযোগ তদন্ত করতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী গত ১ আগষ্ট রাজনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বিনয় কুমার দে’কে প্রধান, বড়লেখা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল ও কুলাউড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আব্দুন নুরকে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি রোববার দুপুরে সরেজমিনে অভিযোগের তদন্ত করেছে।

তদন্তকালে ধান বিক্রয় করতে আসা উপজেলার শাহপুর গ্রামের কৃষক সামছুল ইসলাম, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ছমর উদ্দিন, ছুরমান আলী জানান, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে ৮-১০ দিন আগে গুদামে ধান নিয়ে আসি। গুদামে জায়গা নেই এবং লেবার সংকটের দোহাই দিয়ে তিনি খোলা মাঠে আমাদের ধান রেখে দিয়েছেন। খাদ্য গুদামে বস্তা প্রতি ২০-৩০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। কাজকর্ম ফেলে প্রতিদিনই গুদামে আসছি, কিন্তু নানা অজুহাতে তিনি ধান গ্রহণ করছেন না। আমাদের ধান গ্রহণ না করলেও কিছু লোক ধানের ট্রাক নিয়ে আসতেই তা ওজন করে গ্রহণ করছেন। ঈদের কেনাকাটার জন্য বিক্রি করতে খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে আসেন কৃষক আব্দুল আজিজ বাবু ও সফিক উদ্দিন চৌধুরী। ধান গ্রহণ না করায় মাঠেই স্তুপ করে রেখেছেন। তারা জানান, ধানগুলো বাড়িতে ফেরৎ নিতে দেড় হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া লাগবে। এ টাকা বাচাঁতেই এখানে রেখে যাচ্ছেন। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ঈদের কেনা কাটাতো দুরের কথা, ধান পচে নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। ধান বিক্রি করতে গুদামে আসা কৃষকরা ক্ষোভের সাথে জানান, খাদ্যগুদামের কর্মকর্তার হয়রানীর কারণে তারা আগামীতে ধান চাষ বন্ধ করে দিতে পারেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান রাজনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বিনয় কুমার দে জানান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার নির্দেশে রোববার দুপুরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্তকালে ভুক্তভোগী কৃষকের সাথেও কথা বলেছেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *