- মৌলভীবাজার

কমলগঞ্জে কাল বৈশাখীর ছোবল: ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড

এইবেলা, কমলগঞ্জ, ২২এপ্রিল:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মঙ্গলবার রাতে কাল বৈশাখীর ছোবল ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ শতাধিক কাঁচা ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। শতাধিক বসতঘরের চালের টিন উপড়ে গেছে। সহস্রাধিক গাছ-পালা উপড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়। গাছ ও বিদ্যুতের খুটি উপড়ে পড়ায় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল রাস্তা বন্ধ রয়েছে। মুন্সীবাজার ইউনিয়নের হরিশ্মরণ গ্রামে গাছ পড়ে স্বামী ও স্ত্রী দুই জন আহত হয়েছেন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় রেললাইনের উপর ২০/২৫টি গাছ পড়ে যাওয়ায় প্রায় ৬ ঘন্টা কমলগঞ্জের সাথে সারাদেশের রেলযোগাযোগ চালু হয়।

বুধবার সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের হরিশ্মরণ গ্রামের সনাতন মল্লিক (৩৬) এর ঘরে গাছ উপড়ে পড়ে তিনিসহ ও তার স্ত্রী লিপি রানী মল্লিক (২৭) গুরুতর আহত হন। সনতান মল্লিকের মাথায় আঘাত ও তার স্ত্রী লিপির বাম পা ভেঙ্গে যায়। আহতদেরকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ভাগ্যক্রমে তাদের ছেলে মেয়ে সুমী (৫), অপূর্ব (৩) ও রনি (১) কোন ক্ষতি হয়নি। ঘরটি সম্পূর্ণরুপে বিধ্বস্ত হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ইউনিয়ন পরিষদের তালিকানুযায়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৮৯টি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণরুপে বিধ্বস্ত ও ২৮৫ কাঁচা ঘর আশিংক বিধ্বস্থ হয়েছে। সহস্রাধিক গাছপালা ও বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুটি উপড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়েছে। মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায়। কমলগঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সংলগ্ন স্থানে শতাধিক গাছ উপড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হওয়ায় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার রুস্তুম আলী ফকির জানান, প্রায় ৬ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। মঙ্গলবার রাত ২ টার পর কালবৈশাখী ঝড়ে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া এলাকায় রেল লাইনের ওপর প্রায় ২০/২৫টি গাছ উপড়ে পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাত আড়াইটা থেকে শ্রীমঙ্গল ষ্টেশনে সিলেটগামী উদয়ন, উপবন ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা কালনী, জালালাবাদ ও কুশিয়ারা ট্রেন লংলা, শমশেরনগর ষ্টেশনে আটকা পড়ে। রেল পথের উপর ভেঙ্গে পড়া গাছ সরিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
মঙ্গলবার রাত ১ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত (বুধবার) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের ডিজিএম এস এম হাসনাত হাসান জানান, পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের সাথে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতেও শ্রমিক লাগিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের উপর ভেঙ্গে পড়া গাছ ও মেরামত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।

রিপোর্ট-মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সম্পাদনা-সেলিম আহমেদ

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *