- কুলাউড়া, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়া ঐতিহাসিক ডাকবাংলোর নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু উদ্যান নামকরণ

এইবেলা, কুলাউড়া, ১০ আগস্ট ::

কুলাউড়া উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলো মাঠকে ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’ নাম করণ করা হয়েছে। শুক্রবার ০৯ আগস্ট রাতে পৌরসভা মিলনায়তনে গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃত ও স্থানীয় এমপি সুলতান মো. মনসুর আহমদ মতবিনিময় সভা করে নামকরণের এই ঘোষণা দেন। অবশ্য সেই সভায় কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কোন নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র শফি আলম ইউনুছের সভাপতিত্বে ও পৌর কমিশনার ইকবাল আহমদ শামীমের পরিচালনায় উক্ত সভায় প্রধান অতিথি এমপি সুলতান মনসুর উপজেলার অসমাপ্ত উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, কুলাউড়া ডাক বাংলো এলাকাকে ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’ নামে আজ থেকে নামকরণ করা হলো।

তিনি বলেন, কুলাউড়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শোষিত, নির্যাতিত, অবহেলিত ছিল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সুশাসনের পক্ষে একজন সেবক হয়ে কুলাউড়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সৃষ্টিশীল কাজ করে যাব। তিনি ১৫ আগস্ট শোকের মাসে দুর্নীতি মুক্ত সম্প্রীতির কুলাউড়া গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, অতি দ্রুত সময়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানসহ কুলাউড়ার উন্নয়নে একটি মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে কুলাউড়া প্রেসক্লাব, ক্রীড়া সংস্থা, পাবলিক লাইব্রেরী, শিল্পকলা একাডেমি নিয়ে কয়েকতলা বিশিষ্ট কমপ্লেক্স নির্মাণ, কুলাউড়া শহরের প্রধান সড়ক চার লেনে রূপান্তরিত করণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্টেশন রোডস্থ পুরাতন ডাকবাংলোকে কয়েকতলা বিশিষ্ট আধুনিকরণ ও স্টেশন চৌমুহনী এলাকায় বঙ্গবন্ধু মঞ্চসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সফি আহমদ সলমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ, সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাদি উর রহিম জাদিদ, অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেহা ফেরদৌছ চৌধুরী (পপি) প্রমুখ।

এদিকে কুলাউড়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলোকে বঙ্গবন্ধু উদ্যান হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর থেকে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, বঙ্গবন্ধু উদ্যান করতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। নতুন জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে বঙ্গবন্ধু উদ্যান করলে কারও আপত্তি থাকতো না। কেননা এই ডাকবাংলোর একটা নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতিচিহ্ন আজও বিদ্যামান। আছে ঐতিহাসিক বিজয়মঞ্চ, স্বাধীনতা সৌধের মত স্থাপনা। সকল উপজেলারই একটা স্বকীয়তা থাকে। এরমাধ্যমে কুলাউড়া ডাকবাংলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অপমৃত্যু হবে। দেশবিদেশ থেকে অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত করছেন।

অবশ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *