- সুনামগঞ্জ, স্লাইডার

জামালগঞ্জের হাওর পাড়ের বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও উড়ে জাতীয় পতাকা!

এইবেলা, জামালগঞ্জ, ২০ আগস্ট::
বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা না থাকলে এমনকি বন্ধ থাকলেও জাতীয় পতাকা উড়ে। ঘটনাটি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওর পাড়ের ফেনারবাক ইউনিয়নের জামলাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। খোদ বিদ্যালয়ের দপ্তরি ইমদাদুল হকও জানিয়েছেন আমার দায়িত্ব জাতীয় পতাকা ৪ টা পর্যন্ত টানিয়ে রাখা, স্যাররা নাই, ক্লাস বন্ধ, পতাকা উড়ে ঠিকই, এটা আমার ডিউটি।

মঙ্গলবার দুপুর ৩ টার দিকে জামলাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, জাতীয় পতাকা টানানো রয়েছে। যদিও সব কটি ক্লাস রুম তালাবদ্ধ, শিক্ষকদের রুমেও ঝুলছে তালা।

জামালগঞ্জের প্রত্যন্ত হাওর পাড়ের গ্রাম সদর ইউনিয়নের জামলাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে ৩ জন শিক্ষকের কেউই উপস্থিত ছিলেন না বিদ্যালয়ে। শিক্ষকরা উপস্থিত না থাকায় ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে ক্লাস না করেই ঘুরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনা শুধু একদিনের না প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের পাশে বসবাসরত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে খোদ প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় হতাশ হয়েছে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।

গ্রামবাসী জাহাঙ্গীর সোহেল, লাল মিয়া, ইরাজুল জানালেন, আমাদের স্কুলে এই রকম প্রতিদিনই হয়, স্যাররা ঠিক মত আসেননা, ৩ জনের মধ্যে ১ জন, মাঝে মধ্যে ২ জন স্যার আসেন, ৩ জন আসেনইনা, আর দুপুরের আগেই লাগিয়ে চলে যান। পঞ্চম শ্রেনীতে পড়–য়া ফারজানা আক্তার ও সোনিয়া আক্তার জানান, আজকে ঊর্মি মেডাম একা আইছলো, মেডাম দুপুর পর্যন্ত আমরারে পড়াইছে, হেড স্যার আর মুর্শেদ স্যার আইছেনা, আমরার ক্লাস অইছেনা, আমরা ঘুইরা গেছেগা। একই ভাবে ৪র্থ শ্রেনীতে পড়–য়া জাহাঙ্গীর আলম জানায়, আজকে আমরার একটা ক্লাসও অইছেনা, ডেলি ডেলি আমরার স্কুল ক্লাস অইনা।

জামালগঞ্জের শিক্ষাবিদরা মনে করেন হাওর পাড়ের বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত নজরদারী বাড়ানো, সেই সাথে মহিলা শিক্ষকদেরকে দূরবর্তী কোন বিদ্যালয়ে না দেওয়া, আর শিক্ষকদের বদলীর ক্ষেত্রে সঠিক ও উপযুক্ত শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা গেলে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি বাড়বে।

জামলাবাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিপন চন্দ্র তালুকদার জানান, আমি পারিবারিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জামালগঞ্জে ছিলাম।

জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নূরুল আলম ভুইয়া জানান, জাল্লাবাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন শিক্ষকরা নেই, সে বিষয়ে অনুপস্থিত ২ শিক্ষককের কাছে ব্যাখা চাওয়া হবে ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শফি কামাল বলেন, জামালগঞ্জের প্রত্যন্ত অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির খবর পাই, সাথে সাথে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে, কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকলে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিপোর্ট-জামালগঞ্জ প্রতিনিধি

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *