- নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ

সাপ্তাহিক ছুটিতে শ্রমিক আর ব্যবসায়ীর চাওয়া

মো: আব্দুল্লাহ আল মাছুম, ১১ সেপ্টেম্বর ::

সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা শুক্রবার দিন তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার জন্য হুমড়ি খেয়ে লেগেছেন। কিন্তু শুক্রবার দিন খোলা রাখার যৌক্তিকতা আপনারা কোথা থেকে পেলেন? কতিপয় ব্যবসায়ীর ভাষ্যমতে লাখ লাখ টাকা সিকিউরিটি দিয়ে দোকান নিলেন, পণ্য ক্রয় করলেন, মাস শেষে স্টাফের বেতন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি নিয়ে আপনাদের অসুবিধা তাই শুক্রবার দিন খোলার আবশ্যকতা রয়েছে বলে মনে করেন। কিন্তু আপনারা লাখ লাখ টাকা সিকিউরিটি দেয়ার পূর্বে কি একবার ভেবে দেখেছেন যে, মার্কেট মালিকবৃন্দকে আপনি লাখ লাখ টাকা সিকিউরিটি দিচ্ছেন, মাস শেষে ভাড়া বুঝিয়ে দিচ্ছেন পক্ষান্তরে তাহারা আপনাদের কি সুবিধা দিচ্ছেন? একটি মার্কেট নির্মাণের জন্য মার্কেটে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচালয়, পাকিং প্লেস, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, জরুরী বহিঃগমন রাস্তা ইত্যাদি থাকা আবশ্যক। কিন্তু কতজন ব্যবসায়ীরা এসব সুবিধা বুঝে নিয়ে মার্কেট মালিককে লম্বা সিকিউরিটি, লম্বা ভাড়া দিয়ে দোকান বরাদ্ধ নিচ্ছেন….???

যাইহোক, এতে অসুবিধা না হলেও আপনাদের অসুবিধা হচ্ছে শুক্রবার দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে। কিন্তু শ্রম আইন অনুসারে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে অন্তত দেড়দিন বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। শুধুমাত্র  নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পঁচনশীল পণ্যের দোকান যেমন কাঁচা শাক-সবজী, মাংস, মাছ, দুগ্ধ জাতীয় পণ্যের দোকান, ঔষধের ফার্মেসী- ব্যান্ডেজ- অপারেশনের সরঞ্জাম ইত্যাদির দোকান এই আইনের বাইরে রয়েছে, যা আপনাদের জানা জরুরী। আপনারা যাদের দিয়ে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করেন সেই স্টাফদের একদিনও ছুটি দিতে নারাজ, স্টাফ কখনো ছুটির কথা বললে ভ্রুকুটি বাঁকা করে নাবোধক মতামত ব্যক্ত করেন, কারণ আপনি কর্তা ব্যক্তি। আপনি যেখানে একদিন ছুটি দিতে নারাজ সেখানে আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন আপনি আপনার স্টাফের কতটা ন্যায্যতা দিচ্ছেনে??? শ্রম আইন অনুসারে বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কি মালিকপক্ষ দিচ্ছেন? যেখানে ৮ ঘন্টা ডিউটির কথা সেখানে স্টাফদের দিয়ে রাত পর্যন্ত ১০/১২ ঘন্টা ডিউটি আদায় করে নেন। বিনিময়ে কত টাকা বেতন দেন? ন্যায্য প্রাপ্যতা অনুসারে ৮ ঘন্টার অধিক ডিউটি করলে তাকে ওভার টাইম হিসেবে মজুরী দেবার কথা। আপনি কি তা দেন? মানবিক মানদন্ডে নিজেকে বিচার করে জিজ্ঞাসা করেন দেখেন তো, নিজ স্টাফের খুশির সামিল হতে উৎসাহ/ প্রণোদনা হিসেবে ঈদ/ পূজার সময় কি বোনাস টাকা কিংবা পোশাক দেন? হঠাৎ করে স্টাফ বিপদে পড়লে কি ১০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন? এসব জিনিস কতজন কর্তা ব্যক্তিরা তাদের স্টাফদের সহিত করেন তা আমার জানা নেই। তবুও কর্তা ব্যক্তিরা কিভাবে স্টাফদের দিয়ে কাজ আদায় করে নিতে হয়, কিভাবে সপ্তাহে একটি দিন ছুটি না দেয়া যায় সেই ভাবনায় মশগুল থাকেন। আপনি কর্তা ব্যক্তি হিসেবে স্বঅবস্থান থেকে কি একবার ভেবে দেখেন না যে, আপনার সন্তানরা কি সপ্তাহে তাদের পিতাকে একটি দিন ফ্রি পেতে চায় না…! বাবার সহিত কোথাও বেড়াতে যাবে, হাসবে-খেলবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনি যদি ভাবেন যে, এটি তো ঠিক সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিবারকে সময় দেয়া উচিত। পক্ষান্তরে আপনার স্টাফ আমোদ-ফুর্তির কথা না ভেবে সারা সপ্তাহজুড়ে জমিয়ে রাখা পারিবারিক কাজগুলো সপ্তাহের শুক্রবার দিন করার চিন্তা করে, কারণ তাদেরতো আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতি যেমন দায়িত্ববোধ রয়েছে তেমনি পারিবারিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে। তাদেরও যে সপ্তাহে একদিন পরিবারের সাথে কোথাও বেড়াতে যেতে মন চায়, পরিবারের সাথে কাটাতে মন চায়, শারীরিক ক্লান্তির অবসান চায় শুক্রবার দিনে তা কি আপনার ভেবে দেখা উচিত নয়?

সমাজকর্মী ও অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *