- কুলাউড়া, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

কুলাউড়ায় শোকের আবহে পালিত হয়েছে পবিত্র আশুরা

এইবেলা, কুলাউড়া, ১১ সেপ্টেম্বর ::

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো কুলাউড়ায় পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার এই দিনটি ধর্মীয়ভাবে বিশ্বের শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে এ দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ পবিত্রতম দিন।

উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের নবাববাড়ীর ইমাম বাড়া, টিলাগাঁও ইউনিয়নের পাল্লাকান্দি ইমাম বাড়ায় মিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমরা প্রতি বছরের ন্যায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালন করেছেন। কারবালার ময়দানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় শিয়ারা শোকেরে মাতম, জিঞ্জির মারা, মজলিস ও বাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে ১লা মহরম থেকে ১০ মহরম পর্যন্ত নানা কর্মসূচী পালন করেন।
১০ মহরম বিকেলে বিভিন্ন স্থান থেকে জড় হওয়া তাজিয়া নিয়ে পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি থেকে জিঞ্জির মেরে , জারি গেয়ে মাতম করে মিছিল সহকারে স্থানীয় রবিরবাজার আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে ময়দানে জড় হয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। ১০ মহরম দুপুর থেকে শোকের জারি গেয়ে বুক চাপড়িয়ে মাতম করেন শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারিরা।

ওইদিন বিকেল চারটায় পৃথিমপাশা সাব বাড়ীর ইমাম বাড়া থেকে তাজিয়া সহকারে মিছিল বের হয়। কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে, কারবালার শোকের মাতম ওঠে হাজার হাজার মানুষের কন্ঠে। খালি পায়ে বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম ধ্বনি তুলে এলাকার পরিবেশ শোকে ভারি হয়ে ওঠে। । মিছিলে ছিল ‘বৈল দল (ঘণ্টাপরা তরুণ)’। কেউ বা নওহা (শোকগীতি) পড়ছিল। শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের ঐতিহ্য প্রায় সাড়ে ৩শত বছরের। এভাবে মিছিলটি এগিয়ে যায় রবিরবাজার আলী আমজদ স্কুলের সামনের ময়দানে । মিছিলে কালো কাপড়ের ইমাম হোসেনের (র.) তাজিয়া (প্রতীকী কবর)। পুরুষ ও শিশুদের হাতে অসংখ্য কালো, লাল ও সবুজ নিশান। তরুণদের হাতে ছিল বিচিত্র আলাম (দীর্ঘ লাঠির মাথায় পতাকা)। পুরো মিছিল ঘিরে ছিল পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ময়দানে (প্রতীকি কারবালার ময়দান) আবার শুরু হয় জিঞ্জির মারা, শোকগীত শেষে জিয়ারতে আশুরার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেইন (রা.) তার পরিবার এবং অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে যুদ্ধে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। সেই থেকে এ দিনটিকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সারা দুনিয়ার মুসলমানরা এ দিনটি পালন করে ।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *