- আলোচিত সংবাদ, কুলাউড়া, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

আগামী এক বছরে পাল্টে যাবে কুলাউড়া পৌরসভার চিত্র

এইবেলা, কুলাউড়া,১৪ সেপ্টেম্বর ::

কুলাউড়া পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর। এর আয়তন ১০ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে জনসংখ্যা ৩২ হাজার ৮শ’ ৬০ জন। আর মোট ভোটার ১৮ হাজার ২৪০। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পৌরসভাটি ‘বি’ গ্রেড থেকে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত হয়। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন আলহাজ শফি আলম ইউনুছ। ২০১৫ সালের ৩0 ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিজ দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি মেয়র নির্বাচত হন।

এই সাড়ে তিন বছরে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ তিনি করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। যানজট, জলাবদ্ধতা, ত্রুটিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অনেক সমস্যা পৌরবাসীকে ফেস করতে হচ্ছে। ‘এ’ গ্রেডের পৌরসভা হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা পৌরবাসী পাচ্ছেন না বলে অনেকের অভিযোগ।

পৌর এলাকার বাসিন্দা অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন জানান, ‘পৌরসভায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। গ্রেড পরিবর্তন হলেও মানুষের জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পৌরসভায় সমস্যার কোনো শেষ নেই। রাস্তা প্রশস্ত হয়নি। শহরে যানজট লেগেই থাকে। বলা যায় এটা একটা অপরিচ্ছন্ন শহর। এ নিয়ে মেয়রের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল বলেন, ‘শহরের প্রধান সমস্যা যানজট। এ কারণে পৌরবাসীকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

কুলাউড়া উপজেলা জাসদের সভাপতি মইনুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই শহরে পানি জমে। পৌরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থা নেই।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র আলহাজ শফি আলম ইউনুছ। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে পৌরবাসীর কল্যাণে অনেক কাজ করেছি। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে একসঙ্গে ৯টি ওয়ার্ডে ১১টি নতুন ড্রেন নির্মাণ করেছি। এছাড়া শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গোগালীছড়া ও মরা গোগালীছড়া দুটি খাল অর্ধেক দখলমুক্ত করেছি। খাল দুটি শতভাগ দখলমুক্ত করা গেলে এবং ড্রেন নির্মাণে বাকি কাজ সম্পন্ন হলে শহরে আগের মতো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। আর শহরকে যানজটমুক্ত করতে দুই লেনের ওয়ানওয়ে সড়ক নির্মাণ এবং সুপেয় পানি পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।’

নিজের সফলতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘গত সাড়ে ৩ বছরে এডিবি, সরকারের জলবায়ু তহবিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হতে প্রায় ১৯ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভার দ্বিতল ভবন নির্মাণে ১ কোটি ১০ লাখ, প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি ড্রেন নির্মাণসহ রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যাপক কাজ হয়েছে। পৌরসভায় ৯০ ভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পৌর এলাকায় অবস্থিত মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের সাধ্যমতো উন্নয়নের চেষ্টা করেছি।

কুলাউড়া বশিরুর হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা দেয়াল ও কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসায় নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। বর্তমানে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে তা বাস্তবায়ন হলে পৌরসভায় আমূল পরিবর্তন আসবে।’

শফি আলম ইউনুছ বলেন, ‘বিগত দিনে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে তাতে আমি খুশি। পৌরসভাকে ‘বি’ গ্রেড থেকে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করেছি। পৌরসভার দ্বিতল ভবন হয়েছে। রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হবে তাতে পৌরসভার চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম নির্বাচিত হলে পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত সম্মানীর একটি টাকাও নেব না। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছি। সম্মানীর ৪০ হাজার টাকার সঙ্গে নিজের তহবিল থেকে আরও অর্থ যোগ করে গরিব অসহায় মানুষকে সহায়তা করছি। পৌরসভাটি ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত হওয়ার পর পৌরবাসীর মনে ট্যাক্স বাড়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি।’

মেয়র বলেন, ‘আমার অফিস সব দলের সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত। এখানে এসে সেবা পেতে কাউকে হয়রানির শিকার কিংবা ঘুষ দিতে হয় না।’#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *