- আলোচিত সংবাদ, জুড়ী, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

মায়ের অপকর্ম দেখে ফেলায় জীবন দিতে হলো অপিকে

আব্দুর রব, বড়লেখা, ১৫ সেপ্টেম্বর ::

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় স্কুলছাত্রী শাহিনা জান্নাত অপির রহস্যজনক মৃত্যুর জট খুলতে শুরু করেছে। আত্মহত্যার দাবীতে ময়না তদন্ত ছাড়াই গত ১৯ জুন তড়িগড়ি করে তার লাশ দাফন করা হয়। ঘটনার ২ মাস পর গত ১৮ আগস্ট নিহত স্কুলছাত্রীর চাচি সুকেদা বেগম মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ নং আমল আদালতে (জুড়ী) মা জেলি বেগমের বিরুদ্ধে মেয়ে হত্যার অভিযোগে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করতে জুড়ী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, জুড়ী উপজেলার বড়ধামাই গ্রামের কাতার প্রবাসী কাজল মিয়ার বড় মেয়ে হোসন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শাহিনা জান্নাত অপি (১২) গত ১৮ জুন রাতে অত্মহত্যা করেছে বলে মা জেলি বেগম স্বজনদের মধ্যে প্রচার করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে জেলি বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই গত ১৯ জুন স্কুলছাত্রী অপির লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু স্কুলছাত্রীর এ রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তার স্কুলের সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকায় তখনই নানামূখী গুঞ্জন চলতে থাকে। মা ‘আত্মহত্যায়’ মেয়ে মারা গেছে দাবী করে থানায় ইউডি মামলা করলেও প্রতিবেশীরা দাবী করেন ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

পিটিশন মামলায় বাদী সুকেদা বেগম অভিযোগ করেন, অপির মা জেলি বেগম তার জা হন। জেলির স্বামী কাজল মিয়া প্রবাসে থাকার সুবাদে তিনি নানা অপকর্মে লিপ্ত হতেন। প্রায়ই তার বেডরুমে অপরিচিত লোকজনের আনাগুনা থাকতো। তার বেহায়াপনার দৃশ্য স্বচক্ষে দেখে বালিকা মেয়ে অপি প্রতিবাদ করতো। ঘটনার রাতে অপকর্মের বিষয়টি প্রবাসে থাকা বাবাকে বলে দেয়ার হুমকি দিলে মা জেলি বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে অপিকে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে সে মারা যায়। পরে মা জেলি বেগম গলায় ওড়না পেছিয়ে বাথরুমের বর্গায় ঝুলে মেয়ে অপি আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচার করেন। অপির শরীরে মারপিটের অসংখ্য দাগ থাকা স্বত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সাথে জেলি বেগমের গভীর সখ্যতা থাকায় তাদের মাধ্যমে থানা পুলিশকে অন্ধকারে রেখে তিনি ময়না তদন্ত ছাড়াই নিষ্পাপ শিশু কন্যার লাশ দাফন করেন।

জুড়ী থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, বিজ্ঞ আদালত স্কুলছাত্রী অপির মৃত্যু সংক্রান্ত ইউডি মামলার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যেই তা আদালতে প্রেরণ করেছেন। #

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *