- আলোচিত সংবাদ, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, রাজনগর

রাজনগরের মোহনীয় গ্রাম ‘অন্তেহরি’

এইবেলা, রাজনগর, ২২ সেপ্টেম্বর ::

গ্রাম জুড়ে হিজল করচের বাগান। স্বচ্ছ পানি আর সুর্যের আলোর জলকেলির সাথে মৃদু বাতাস দোল খায়। নিরেট জলের বুকে সবুজ ভাসমান সেই গ্রামটির নাম ‘অন্তেহরি’। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের এই গ্রামটিতে এখন দুর দুরান্ত থেকে সৌন্দর্য্য পিপাসুরা আসেন বেড়াতে। কেউ কউে বলেন পানির সাথে লড়াই করে আবার কেউ কেউ বলেন পানির সাথে মিতালী করে ‘অন্তেহরি’ গ্রামের মানুষের বসবাস।

মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে অন্তেহরি গ্রামের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। রাজনগরের সবচেয়ে বড় জলাভূমি কাউয়াদিঘি হাওরকে কেন্দ্র করে অন্তেহরি গ্রামের লোকবসতি গড়ে উঠার ইতিহাস কতদিনের তা বলা মুশকিল। তবে প্রায় শত বছর আগে বটেই। গ্রামের জনবসতি ৫সহ¯্রাধিক বলে জানান গ্রামেরই বাসিন্দা রিংকু রঞ্জন চক্রবর্তী। বিশাল এই গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। তবে মৎস্যজীবির সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

বর্ষায় গ্রামটির বৈচিত্র্যময় রূপ ধারণ করে, যখন হাওর পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। আর তখনই অন্তেহরি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। অন্তেহরি গ্রামটি বছরে ছয় থেকে আট মাস জলমগ্ন থাকে। বর্ষার শুরুতে পার্শ্ববর্তী কাউয়াদিঘি হাওরে পানি বেড়ে এই গ্রামটি জলাবদ্ধ করে। তখন অন্যান্য গ্রামের মতো থাকা অন্তেহরি গ্রামের রূপ পাল্টে মোহনীয় হয়ে ওঠে। খাল, বিল, পুকুর কিংবা গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট সব একাকার হয়ে যায় হাওরের পানিতে। বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জলের গ্রাম হিসেবে অন্তেহরি নিজেকে পূর্ণ রূপে আবিষ্কার করে।
গোছালো জলারবনের ভেতর নৌকায় করে পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়ানো যায়। গ্রামের মেঠোপথ বর্ষায় জলপথে রূপ নেয়া চির সবুজের বুক চিরে চলে নৌকা। চলতে চলতে চোখে পড়ে ডানে-বামের সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবন চিত্র। পুরো গ্রামই পানির ওপর ভাসমান। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ির যাতায়াতের মাধ্যম শুধুই নৌকা। এ যেনো একটি বাড়ি একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির বাঁকে-বাঁকে মাছ শিকারের নানা আয়োজন। এমন দৃশ্য দেখতে দেখেতে হঠাৎ আপনি প্রবেশ করতে পারবেন বিশাল কাউয়াদিঘি হাওরে।

বিকেল থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত জলারবনে ভ্রমণের জন্য উত্তম সময়। বিকেলেই অন্তেহরির মানুষের জীবন আর জীবিকার দৌড়ঝাঁপ একটু বেশি প্রত্যক্ষ করা যায়।

জলারবনের মাঝখান দিয়ে টলটলে জলের ওপর দিয়ে ছুটে চলে মাঝির ডিঙি নৌকা। বর্ষা মৌসুমে জলই সেখানকার জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধানতম মাধ্যম। চলার পথে কোথাও চোখে পড়বে নৌকার ওপর জাল টানছেন জেলেরা। আবার কোথায় শিশুরা শাপলা কুড়াচ্ছে, কখনো বা দেখা পাবেন বাড়ির উঠানে কৃষাণীর বিরামহীন পরিশ্রমের দৃশ্য।

দেখতে দেখতে আর প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে মাঝি আপনাকে নিয়ে যাবে কাউয়াদিঘি হাওরে, তখন পশ্চিমাকাশে সূর্য ডুবতে যাচ্ছে। পাখিদের বিচরণ প্রকৃতিকে করে তুলে আরও মোহনীয়। নীড়ে ফেরা ঝাঁকে-ঝাঁকে সাদা বকের উড়ে চলা। সব মিলিয়ে এ যেনো পাখিদেরও স্বর্গরাজ্য। প্রকৃতি যেনো তার অপার রূপ লাবণ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে সবার মাঝে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *