- কুলাউড়া, ব্রেকিং নিউজ, শিক্ষাঙ্গন, স্লাইডার

কুলাউড়ার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই প্রধান শিক্ষক নোমানের নতুন কান্ড !

এইবেলা, কুলাউড়া, ০২ অক্টোবর ::

একেরপর এক কর্মকান্ড করেই ক্ষান্ত হয়নি কুলাউড়ার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ। নিজের ইচ্ছামাফিক ও ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত এক সহকারি শিক্ষিকাকে বাদ দিয়ে নিয়োগ বিধিমালা না মেনে নতুন একজন খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিজের দৃষ্টতা দেখিয়েছেন। এর আগে তিনি বিদ্যালয়ের ওই সহকারি শিক্ষিকাকে যৌন হুয়রানি করেছিলেন। থানায় মামলাও হয়েছে। যার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি তদন্ত হয়েছে। একটি তদন্ত প্রমাণিতও হয়েছে। বাকি দুটি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। নিজেকে একজন আওয়ামী লীগ নেতার পরিচয় দেন। কালো টাকার প্রভাব খাঁটিয়ে সকল অপরাধ কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন হরহামেশাই। বিষয়টি ধামা চাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা নিয়ে জেলার ক্ষমতাসীন নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। শেষতক, এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোন চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সরকারি বিধিমোতাবেক ওই সহকারি শিক্ষিকা উপজেলার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। এপ্রিল মাসে এমপিওভুক্ত হন (যার ইনডেক্স নাম্বার-১১৪৯৬৬৫)। কিন্তুু প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৬ জুলাই যৌন হুয়রানির শিকার হওয়ার পর তাঁর ভয়ে তটস্ত হয়ে প্রায় তিন মাস থেকে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন না ওই সহকারী শিক্ষিকা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটি বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে না জানিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে ওই সহকারী শিক্ষিকাকে বাদ দিয়ে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিক হাসান নামে একজনকে খন্ডকালীন বিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগে বিধিমালার কোন তোয়াক্ষা করেননি। এমনকি এর আগে একই পদ্ধতি অবলম্বন করে বিদ্যালয়ে ৭ জনকে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন।

ওই সহকারী শিক্ষিকা জানান, ঘটনার পর থেকে আমি প্রধান শিক্ষকের ভয়ে ও নিরাপত্তাহীনতায় বিদ্যালয়ে যাচ্ছি না। জুলাই মাস থেকে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক বেতন শিট থেকে আমার নাম কেটে দিয়েছেন। ছুটির জন্য নির্দেশনা চেয়ে ৩টি আবেদন করেছি।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ জানান, বিদ্যালয় তো চালাতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করে নিয়োগ দিয়েছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার জানান, প্রধান শিক্ষক এটা কোন অবস্থাতেই করতে পারেন না। আমাকে অবগত করেননি, এমনকি বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে জানানোর কোন প্রয়োজন মনে করেননি।

বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। এই নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামী ২০ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শিক্ষার মান উন্নয়নে একটি মতবিনিময় সভা করার জন্য চিঠি প্রদান করেছি। আশা করছি এই সভায় সকল সমস্যার নিরসন হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *