- আলোচিত সংবাদ, কুলাউড়া, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার মিশন হাসপাতালে ডাক্তারের বিরুদ্ধে গৃহবধুর অভিযোগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এইবেলা, কুলাউড়া, ১০ অক্টোবর ::

চিকিৎসার নামে রোগীর হাতে-মুখে চুমু দেয়াসহ নানা যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার খৃষ্টিয়ান মিশনের ডাক্তার ডেভিটের বিরুদ্ধে। এক সিজার রোগীর সেলাই কাটার সময়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে নানা অঙ্গভঙ্গীমায় অনৈতিক আচরণ করেন ডাক্তার ডেভিট। এমন আচরণে ওই রোগীর আত্মীয় ব্রাহ্মণবাজার খৃষ্টিয়ান স্বাস্থ্য প্রকল্প (বিসিএইচপি)’র পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাজার খ্রীষ্টিয়ান স্বাস্থ্য প্রকল্প (বিসিএইচপি) কর্তৃপক্ষ।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধু ব্রাহ্মণবাজার খ্রীষ্টিয়ান মিশনের ডাক্তার ফরিদ আহমদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। গৃহবধুর নরমাল ডেলিভারীর জন্য ব্রাহ্মণবাজার খ্রীষ্টিয়ান মিশনে ভর্তি দেন এবং একদিন অপেক্ষার পরামর্শ দেন ডাক্তার ফরিদ। কিন্তু ওই দিন রাত ৩টায় খৃষ্টিয়ান মিশনে ইনচার্জ ডাক্তার ডেভিট গৃহবধুর অপারেশ (সিজার) করতে হবে বলে জানান রোগীর আত্মীয়দেরকে। সিজারের মাধ্যমে জন্মনেয়া নবজাতকের পরের দিন জ¦র আসলে ডেভিটকে বিষয়টি অবগত করলেও গুরুত্ব দেননি তিনি।

অন্যদিকে গত ২৭ সেপ্টম্বর ওই গৃহবধু অপারেশনের (সিজার) সেলাই কাটাতে আসেন কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার খৃষ্টিয়ান মিশনে। খৃষ্টিয়ান মিশনের ইনচার্জ ডাক্তার ডেভিট সেলাই কাটার এক পর্যায়ে গৃহবধুর হাতে-মুখে ধরে চুমু দেন এবং নানাভাবে যৌন হয়রানী করেন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে অভিযোগের আলোকে ডাক্তার ডেভিটের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার খৃষ্টিয়ান স্বাস্থ্য প্রকল্প (বিসিএইচপি) কর্তৃপক্ষ। তবে বাদীর অভিযোগ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ কাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ডাক্তার ডেভিট অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের সাথে পুরো বিষয় নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

ব্রাহ্মণবাজার খৃষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালের বক্তব্য-

 আপনি অবগত আছেন, কুলাউড়া ব্রাহ্মণবাজার খৃষ্টিয়ান হাসপাতালটি দীর্ঘ দিন থেকে অত্র অঞ্চলের দরিদ্র পীড়িত মানুষের মাঝে স্বল্পমুল্যে  আধুনিক মানের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং এই হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নীরিক্ষাসহ স্বাস্থ্যসেবার ভালমানের কারণে এর সুনাম এই অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে। এছাড়া এই হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তার (ইনচার্জ) ডা. ডেভিড তন্ময় একজন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সদা হাস্যজ্জ্যোল, বিনয়ী এবং ধর্মভীরু মানুষ। আমাদের হাসপাতাল ও ডাক্তারের সুনামের কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল কোন গোষ্ঠীর প্ররোচনায় হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন করার মানসে সম্পুর্ণ চক্রান্ত করে সংবাদটি ছাপাতে আপনাকে প্ররোচিত করা হয়েছে মর্মে আমাদের বিশ্বাস। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার রিমা আক্তার নামীয় রোগীটি বর্তমানে বাচ্চাসহ সম্পুর্ণ সুস্থ আছেন। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে তার সাথে কোনরূপ অসৌজন্যমুলক আচরণ করা হয়নি। রোগীর আত্মীয় কি কারণে অভিযোগ করেছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তথাপিও অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি সদস্য সঙ্গে নিয়ে আমি নিজেই তদন্ত করে যা নিশ্চিত হয়েছি। রোগীর সাথে সরাসরি আলাপ করে ও হাসপাতালের তৎকালীন সময়ে কর্তব্যরত স্টাফদের সহিত আলোচনা করে ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র পর্যবেক্ষন সাপেক্ষে এই অভিযোগের কোন ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এবং অভিযোগকারী সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অভিযোগকারীর আত্মীয়স্বজনসহ যাচাই বাচাই সাপেক্ষে এবং অভিযোগকারীর স্বীকারোক্তী অনুযায়ী উক্ত অভিযোগের কোনরুপ সত্যতা পাওয়া যায়নি। উক্ত অভিযোগটি সম্পুর্ন ভিত্তিহীন, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমুলক এবং উদ্দেশ্য প্রনোদীত, যা ব্রাহ্মণবাজার মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি স্বার্থন্বেষী মহলের চক্রান্ত ।
তাই সরাসরি রোগীর সাথে আলাপ না করে রোগীর আত্মীয়ের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে যে রিপোর্ট আপনার পত্রিকায় ছাপা হয়েছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং এই রিপোর্ট প্রকাশের কারণে হাসপাতালের যে সুনামের ক্ষতি হয়েছে তা পুনঃস্থাপনের জন্য প্রতিবাদ লিপিটি পুনরায় আপনার পত্রিকায় ছাপানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করা হল।
বিনীত,
পরিচালক
ব্রাক্ষ্মণবাজার খ্রীষ্টিয়ান স্বাস্থ প্রকল্প

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *