- আলোচিত সংবাদ, কুলাউড়া, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম রাহেলা

এইবেলা, কুলাউড়া, ১২ অক্টোবর ::

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলায় মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এক নারী। জুড়ি উপজেলার বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী নিজেকে কখনও সাংবাদিক, কখনও যুবলীগ নেত্রী, কখনও শ্রমিক ফেডারেশনের নেত্রী ও কখনও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, পতিতাবৃত্তি, ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন, ব্ল্যাকমেইলিংসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা সে করছে না। বাড়ি জুড়ি উপজেলায় হলেও কুলাউড়া শহরের উত্তরবাজারস্থ ফরমুজাবাদ আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় ৩য় তলায় বিশাল ফ্লাটে বসবাস করে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টি কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবগত করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু কোন প্রতিকার না পেয়ে শেষতক এই প্রতারক নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন পত্রিকার ২৫ জন সাংবাদিক মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জুড়ী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর মেয়ে এই রাহেলা সিদ্দিকা। পিতার মৃত্যুর পর থেকে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। সেই থেকে তার অপকর্মের পথে হাঠা শুরু। লেখাপড়া না জানালেও প্রতারণায় দক্ষ রাহেলা নিজেকে প্রথমে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শুরু করে তার অপকর্মের ব্যবসা। প্রথমে কিছু সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে সিসি নিয়ে সাংবাদিক বনে যায়।


সাংবাদিকতার পরিচয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে রিক্রিয়েশন ক্লাবে চাঁদা দাবি করলে তাকে সেখানে আটকে রাখে ক্লাবের সদস্যরা। এই কথিত নারীর কোন আয় রোজগার না থাকলেও কুলাউড়া শহরে বিশাল বাসায় থাকে। সারারাত সে কুলাউড়া শহরের অলিতে গলিতে, বিশেষ করে স্টেশনে বিচরণ করে। সাংবাদিকের প্রভাব খাটিয়ে স্টেশনের টিকিট কালোবাজারির সাথে জড়িয়ে পড়ে। দৈনিক যুগান্তরসহ বেশ কিছু অনলাইনে এই টিকিট কালোবাজারির নামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এর আড়ালে চলমান ঘটনা দুর্ঘটনা থেকে আয় রোজগারই ভালো চলে। বিষয়টি টের পাওয়ার পর সাংবাদিকরা সচেতন হলে কমে যায় আয় রোজগার। ফলে নেমে পড়ে বাঁকা পথে।

বিয়ে করে ব্ল্যাকমেইলিং করা যার প্রধান নেশা ও পেশা। জুড়ী উপজেলায় একটি ব্যাংকের নৈশপ্রহরীর সাথে সখ্যতা গড়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে। ব্ল্যাক মেইলের শিকার সেই নৈশপ্রহরী তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। সেই নৈশপ্রহরীর স্ত্রী ও সন্তান থাকায় মান সম্মানের ভয়ে সে জুড়ী উপজেলা ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। কিছুদিন পরে সেই নৈশপ্রহরীর পরিবারকে জিম্মি করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে ছাড়াছাড়ি হয়। কুলাউড়া শহরের স্টেশন রোডের একটি দোকানে শালিস বৈঠকে আপোষ রফা হয়। এরপর বড়লেখা উপজেলার দরগাবাজারের বাসিন্দা মিতুন নামক সিএনজি অটোরিক্সা চালককে ৩ দিনের জন্য বিয়ে করে। তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকার কাবিন করে। ৩দিন পরে তালাকের নামে তার কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে সেই সিএনজি অটোরিক্সা চালক রাহেলার খপ্পর থেকে মুক্তি পায়।
প্রতারক রাহেলার প্রতারণার শিকার হন জুড়ী উপজেলার শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার ২ সাংবাদিক। দু’জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে কুলাউড়া থানায় জিডি করে। পরে তাদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে জিডি প্রত্যাহার করে। কুলাউড়ার এক সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সিলেট কতোয়ালী থানায় মোবাইল চুরির অভিযোগে জিডি করে।

সর্বশেষ কুলাউড়ার বাসা থেকে মোবাইল হারানোর কথা বলে কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দেয়। এতে কুলাউড়া উত্তরবাজারস্থ একটি হোটেলের নিরীহ হোটেল কর্মচারিদের হয়রানি করে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সেই হোটেল বয়দের কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে বলে জানায়।

যে বাসায় উক্ত প্রতারক বসবাস করছে সেই ফরমুজাবাদ আবাসিক এলাকার মানুষ তার অপকর্মে অতিষ্ঠ। বাসার মালিক তাকে বাসা ছাড়ার কথা বললেও সে বাসা না ছেড়ে উল্টো বাসার মালিককে নারী নির্যাতন মামলার হুমকি ধামকি দেয়। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলার হুমকি দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ অনেকটা অসহায়।

এই প্রতারকের বাসায় আনাগোনা রয়েছে একটি দৈনিকের চাকুরিচ্যুত সিলেটি সাংবাদিক, মৌলভীবাজারের এক সাংবাদিক নেতাসহ কিছু অসাধু সাংবাদিকের। যাদের ছত্রছায়ায় তার অপকর্মের শেকড় প্রসারিত হচ্ছে।

কুলাউড়া থানার নামপ্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ অফিসার জানান, ভাই আমরা ওকে ভয় পাই। থানায় আসলে রুম থেকে বেরিয়ে যাই। মহিলা মানুষ কোন সময় কার কাছে কি অভিযোগ করবে। মান সম্মান থাকবে না।

শুধু পুলিশ সাংবাদিক নয় কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ আতঙ্কে থাকে এই নারী প্রতারকের। কাকে কখন তার প্রতারণার জালে জড়াবে তা বলা মুশকিল। তাই কুলাউড়ায় কর্মরত ২৫ জন সাংবাদিক এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এদিকে একাধিক সুত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেয়ার পর সুবিধাভোগী কিছু অসাধু সাংবাদিকরা প্রশাসনের কাছে ওই নারী প্রতারকের পক্ষে তদবিরও শুরু করেছেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত নারী প্রতারক রাহেলা সিদ্দিকা জানান, আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আমি নিজেও জানি না। শীগ্রই আপনাদের সাথে দেখা হবে।

এদিকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ সাংবাদিকদের অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। #

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *